কলকাতার প্রাচীন বৌদ্ধসংস্থা (শেষ পর্ব)

Smiley face

প্রবন্ধের ১ম পর্ব পড়ুন এখানে: কলকাতার প্রাচীন বৌদ্ধসংস্থা

কৃপাশরণে আগ্রহাতিশয্যে স্যার আশুতোষ ১৯১৪ খ্রীস্টাব্দে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে লণ্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ে পালিভাষায় উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার্থে সরকারি বৃত্তি প্রদানের জন্য ভারত সরকারের কাছে সুপারিশ করেন। তৎকালীন শিক্ষাসচিব হারকোট বাঁটলার কর্তৃক মঞ্জুরীকৃত ঐ বৃত্তি প্রাপ্ত হয়ে বেণীমাধব বড়ুয়া ভারতীয়দের মধ্যে সর্বপ্রথম ১৯১৭ খ্রীস্টাব্দে লণ্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ উপাধি ডি. লিট লাভের গৌরব অর্জন করেন। স্ত্রী- শিক্ষা প্রসারেও ‍কৃপাশরণের ভূমিকা সর্বজনবিদিত। ১৯১৮ খ্রীস্টাব্দের ধর্মাঙ্কুর বিহারে তিনি প্রথম বৌদ্ধ মহিলা সম্মেলন আয়োজনে কার্যকর ভূমিকা গ্রহণ করেন। এতে পৌরোহিত্য করেন বেথুন কলেজের প্রিন্সিপাল মিস এ. এল. জেনো। তাঁর সর্বশেষ উল্লেখযোগ্য অবদান-১৯২৪ খ্রীস্টাব্দে কলকাতায় সর্বপ্রথম আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ সম্মেলন আহ্বান করা। ধর্মাঙ্কুর বিহার সংলগ্ন নালন্দা পার্কে বিভিন্ন বৌদ্ধ প্রধান দেশসমূহের সংঘানয়কবৃন্ধের উপস্থিতিতে এই মহাসম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ১৯২৬ খ্রিস্টাব্দে কৃপাশরনের মহাপ্রয়ানের পর ধর্মাঙ্কুর সভা ও বিহারের অগ্রগতি অনেকটা ব্যাহত হয়। তবে বিগত দু-দশক কৃপাশরনের সার্থক উত্তরসূরী ধর্মপাল মহাথের-এর সুদ্ক্ষ পরিচালনায় এর বহুমূখী কর্মধারা কলকাতাবসীর সপ্রশংস দৃষ্টি আকর্ষণে সমর্থ হয়েছে।

কলকাতার প্রচীন বৌদ্ধসংস্থা মহাবোধি সোসাইটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৯১ খ্রিীস্টাব্দের ৩১ মে। এর প্রতিষ্ঠাতা হলেন অনাগারিক ধর্মপাল ( ১৮৬৪-১৯৩০)। উনবিংশ শতাব্দীর শেষ ভাগে এবং বিংশ শতাব্দীর প্রথম ভাগে ভারতীয় কর্মজীবনে যে নবজাগরণের সূচনা হয়েছিল এবং এতে যেসব বিদেশী মনীষী উল্লেখযোগ্য ভূমিকা গ্রহণ করেছিলেন তাঁদের মধ্যে মিসেস অ্যানি বেসাম্ভ, কর্নেল অলকট, ভগিনী নিবেদিতা, মাদাম হেলেনা পেট্রোভনা ব্লাভাৎস্কিক সঙ্গে অনাগারিক ধর্মপালের নামও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণীয়। জন্মসূত্রে ধর্মপাল ছিলেন  সিংহলী বৌদ্ধ।  মহাবোধি সোসাইটি  প্রতিষ্ঠার পরের বৎসর (১৮৯২)  জুন মাস থেকে তিনি ইংরেজী মাসিক পত্রিকা ‘দি মহাবোধি’ প্রকাশ করতে আরম্ভ করেন। তাঁর  অক্লান্ত পরিম্রমে কলকাতার কলেজ স্কোয়ার অঞ্চলে নির্মিত হয় কলকাতার দ্বিতীয় বৌদ্ধবিহার- শ্রীধর্মরাজিক চৈত্য বিহার। এই বিহারের ভিত্তি স্থাপন করা হয় ১৯১৮ খ্রীস্টাব্দের ১৬ ডিসেম্বর, আর এর শুভ উদ্বোধন হয় ১৯২০ খ্রীস্টাব্দের ২০ নভেম্বর। ধর্মপাল কৃপাশরণের মধ্যে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্বন্ধ ছিল। মহাবোধি প্রতিষ্ঠাকালে ধর্মপাল অনেক অনুষ্ঠানদি যৌথভাবে ধর্মাঙ্কুর বিহারে সম্পন্ন করতেন। ১৯১৫ খ্রীস্টাব্দে এক মহৎ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কৃপাশরণ ধর্মপালকে সম্বর্ধিত করেন।

স্বামী বিবেকানন্দ ও অনাগারিক ধর্মপালের যোগাযোগও নিঃসন্দেহে এক ঐতিহাসিক ঘটনা। অধ্যাপক বিনয় সরকার লিখেছেনঃ ‘‘ধর্মপাল আর বিবেকানন্দ দু’জনই ভারতীয় কর্মনিষ্ঠার প্রচারক, ভারতীয় স্বাধীনতার প্রতিমূর্তি।” ১৮৯৩ খ্রীস্টাব্দে শিকাগো মহাসম্মেলনের পর থেকে উভয়ের ঘনিষ্ঠতা আরও বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়েছিল। ঐ মহাসম্মেলনের পর কলকাতায় ফিরে এসে ধর্মপাল তাঁর বহু বক্তৃতায় স্বামী বিবেকানন্দ সর্ম্পকে  বহু প্রশংসাসূচক মন্তব্য করেন। স্বামী বিবেকানন্দ আমেরিকা থেকে সে সর্ম্পকে তাঁর এক পত্রে ধর্মপালকে (১৮৯৪) লেখেনঃ ‘‘আশা করি আপনার মহৎ উদ্দেশ্য সিদ্ধ হয়। যিনি বহুজনহিতায়, বহুজানসুখায় এসেছিলেন, আপনি তাঁর উপযুক্ত দাস।” স্বামী বিবেকানন্দ ধর্মপালের পত্রিকা ‘দি মহাবোধি’-র একজন আগ্রহী পাঠক ছিলেন ছিলেন স্বামীজীর ঐ পত্র থেকে জানা যায়।

 

  • -স্বামী বিবেকানন্দ প্রবর্তিত রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের একমাত্র মাসিক বাঙলা মুখপত্র উদ্বোধন পত্রিকার কলকাতার তিনশত তম বর্ষে পদাপণ উপলক্ষে প্রকাশিত বিশেষ সংখ্যা (ভাদ্র ১৩৯৬, ৯১তম বর্ষ) থেকে সংগৃহীত। -সম্পদাক।
Facebook Comments

বৌদ্ধদের আরো তথ্য ও সংবাদ পেতে হলে আমাদের ফেসবুক ফ্যান পেইজে লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন।: www.facebook.com/buddhisttimes

দি বুড্ডিস্ট টাইমস.কম একটি স্বতন্ত্র ইন্টারনেট মিডিয়া। এখানে বৌদ্ধদের দৈনন্দিন জীবনের বিষয়গুলোকেই তুলে আনার চেষ্টা করা হয়। পাশাপাশি যে কেহ লিখতে পারেন দি বুড্ডিস্ট টাইমস এ। দি বুড্ডিস্ট টাইমস এর সাথে লেখ-লেখিতে যুক্ত হতে চাইলে ব্যবহার বিধি ও নীতিমালা পড়ুন অথবা নিবন্ধন করুন
এখানে।

Short URL: http://thebuddhisttimes.com/?p=6248

ধম্মবিরীয় ভিক্ষু Posted by on Jul 25 2017. Filed under ইতিহাস-ঐতিহ্য, প্রবন্ধ. You can follow any responses to this entry through the RSS 2.0. You can leave a response or trackback to this entry

You must be logged in to post a comment Login

Smiley face

সর্বশেষ টাইমস

Recent Posts: NivvanaTV covering Buddhist and Buddhist community in World, with weekly news, views, entertainment, and programs for all age.

রাঙ্গামাটিতে পাহাড় ধ্বসে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান

রাঙ্গামাটিতে পাহাড় ধ্বসে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান

সুপ্রিয় চাকমা শুভ,রাঙামাটি সাম্প্রতিক পাহাড় ধস ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থ রাঙ্গামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ৬০টি পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছে বিদেশী দাতা সংস্থা দি স্যালভেশন আর্মী বাংলাদেশ। শুক্রবার (১৯ জানুয়ারী) সকালে বিলাইছড়ি উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য রেমলিয়ানা পাংখোয়া প্রধান অতিথি হিসাবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের মাঝে আর্থিক সহায়তা বিতরণ করেন। […]

Photo Gallery

Top Downloads

Icon

The Buddhist Times Android apps 46.21 KB 54 downloads

...
Icon

অভিধর্ম্মার্থ সংগ্রহ 1.65 MB 1 downloads

গ্রন্থের নামানুসারে ইহা একটি অর্থ-সংগ্রহ...
Developed by Dhammabiriya
error: অনুগ্রহ করে কপি/পেস্ট মনোভাব পরিহার করি নিজে লেখার যোগ্যতা অর্জন করুন।