কে সেই একজন?

Smiley face

ভারতবর্ষে বৌদ্ধদের ঠিকে থাকার হাজার বছরের ইতিহাস বড়ই করুণ।বার বার বিধর্মীদের আক্রমণ আর অত্যাচারের শিকার হয়ে ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ শান্তিকামী জাতি হিসাবে কখনও লড়াই বা যুদ্ধ করেনি এ জাতি। পরিস্কার করে বললে হিন্দু ও মুসলিম শাসক দ্বারা বার বার অত্যাচার আর বিরোধিতার সম্মুখীন হয়েছে বাংলাদেশে বৌদ্ধধর্ম ও বৌদ্ধরা।

ভারতবর্ষে মুসলিমদের আবির্ভাবের আগে থেকেই বৌদ্ধরা ক্ষমতাশালী হিন্দুদের প্রতাপে ছিলেন একেবারে কোণঠাসা।

বাংলার শৈব ব্রাহ্মণ রাজা শশাঙ্ক শেষ বৌদ্ধ সম্রাট হর্ষবর্ধনের বড় ভাই রাজ্যবর্ধনকে ৬০৫ খ্রিষ্টাব্দে হত্যা করেন। এরপরে শশাঙ্ক বোধি গয়াতে গিয়ে বোধি বৃক্ষকে উপড়ে ফেলেন। পাশের বৌদ্ধ বিহারে থাকা বৌদ্ধের প্রতিকৃতি তিনি সরিয়ে ফেলে তার জায়গাতে শিবের প্রতিকৃতি ঝুলিয়ে দেন। আরেক শৈব হিন্দু রাজা মিহিরকুল ১৫০০ বৌদ্ধ তীর্থস্থান সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করেন। শৈব রাজা তরামন কৌসম্বিতে থাকা বৌদ্ধ মঠ ঘষিতরাম ধ্বংস করেন।

ব্রাহ্মণদের দ্বারা পাইকারী হারে বৌদ্ধ স্থাপনাগুলোর ধ্বংস ভারতবর্ষ থেকে বৌদ্ধবাদের নির্মূল হওয়াকে ত্বরান্বিত করেছে। বুদ্ধগয়া মহাবোধি বিহারকে জোর করে শিব মন্দিরে পরিণত করা হয়েছিল।  তা নিয়ে বাদানুবাদ আজও চলছে। অযোধ্যার অনেক হিন্দু তীর্থস্থান, যেমন সবরীমালা, বদ্রীনাথ কিংবা পুরীর মত প্রসিদ্ধ ব্রাহ্মণ্য মন্দির আদতে একসময় ছিল বৌদ্ধ মন্দির।”

দ্বাদশ শতকে বাংলায় ইসলামের আগমন ঘটে। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে সামরিক অভিযান এবং যুদ্ধ জয়ের মাধ্যমে মুসলিম শাসকেরা ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন। ইতিহাসের নৃশংস হত্যাকারী মুহাম্মদ বখতিয়ার খিলজী হঠাৎ গুপ্ত আক্রমণে জগৎ বিখ্যাত নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় ধ্বংস করে এখানকার শত শত বৌদ্ধ ভিক্ষুকে হত্যা করে।

ভারতবর্ষের পর আনু: ১২২৫ খ্রিঃ বাংলাদেশ ইসলামের করতলগত হলে বাংলাদেশের বৌদ্ধ বিহার, মন্দির মুসলিম সৈন্যদের দ্বার আক্রান্ত হয়ে সব ধ্বংস হয়ে যায়। জীবন বাঁচাতে বৌদ্ধদের বাধ্য করা হয় ইসলাম গ্রহণ করতে।

এবার দৃষ্টি দেয়া যাক বর্তমান আধুনিক যুগের কথা। মাত্র ৫বছর আগে আবার আঘাত করা হয় শান্তিপ্রিয় জাতি বৌদ্ধদের উপর। ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১২ সালের রাতে আধারে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে ধ্বংস করে দেয়া হয় কক্সবাজার জেলার রামুর শত বছরের বৌদ্ধ ঐতিহ্য সমৃদ্ধ বৌদ্ধ বিহার।

তখনও দেশের বৌদ্ধরা ছিল স্ব-নীতির ছায়ায়। কিছু মানববন্ধ করেছে কিন্তু অন্য বর্বর জাতির মত জ্বালাও পোড়াও, ধ্বংস করো, হামলা করো, হত্যা করো এমন কার্যকলাপে বৌদ্ধরা কখনও করেনি।

শুধুমাত্র নিজেদের বেদনার বৌদ্ধদের ঐই শান্তিপূর্ণ মনববন্ধন নিয়েও অনেক অতি বৌদ্ধ নীতি পরায়ন ব্যক্তির কথা ও লেখনিতে উচ্চারিত হয়েছে, কেন এসবের দরকার? আমরা ক্ষান্তীবাদী। আমরা মৈত্রীপরায়ন, আমরা বুদ্ধের অহিংস নীতি পালন করী। কিছু করার দরকার নেই, অন্তর থেকে ক্ষমা করো সেই অপরাধীদের।

আবার এলো ২৪ এপ্রিল, ২০১৭। এবার একটি জাতীয় দৈনিকে এক ফিচার লিখে বৌদ্ধ ধর্ম গুরুদের অবমাননা শুধু নয় অহিসংসা, মৈত্রী, করুণার আধার গৌতম বুদ্ধকে আখ্যায়িত করা হলো ‘সন্ত্রাসী’ শব্দ চয়নে।

এবারও সেই অতি বৌদ্ধ নীতি পরায়ন ব্যক্তিরা কথা ও লেখনিতে বলছে, গৌতম বুদ্ধের সময় কালিন অগণিত ব্রাহ্মণ, রাজা, ঋষি সন্নাসী গৌতম বুদ্বকে এর ছেয়েও আরো অনেক জঘন্য ভাবে উপহাস করে আসেছে। কই তিনি কখনো তো কারো শাস্তির দাবি করেন নি। কখনো তো তার শিষ্যদের কারো শাস্তির দাবিতে মানববন্দন করতে বলেন নি। একটা মানুষ গৌতম বুদ্বকে সন্ত্রাসী বল্লো আর উনি সন্ত্রাসী হয়ে গেল?? ভাল করে চিন্তা করে দেখুন আপনাদের মাঝে আর যারা শান্তির ধর্মের নামে লাপালাপি করে তাদের মধ্যে ব্যবধান কোথায় ?? এটা গৌতম বুদ্বের শিক্ষা নয় কারো শাস্তির দাবিতে মানববন্দন করা। সবার প্রতি মৈত্রিভাব পোষন করায় গৌতম বুদ্ধের শিক্ষা।।

ওহো, শান্তিকামী জাতি, ফিরোজ মান্নার মত অসভ্য ব্যক্তি কি আপনার এই মৈত্রী, করুণা, মুদিতা, উপেক্ষার বাণী শুনছেন? তিনি যেই ভাষা বুঝেন সেই ভাষায় যদি উত্তর বৌদ্ধ জাতি এখন দিতে না পারে তাহলে বিবাদ-বিসংবাদ দমন করতে না পেরে বুদ্ধ যেমন লোকালয় ছেড়ে পারলিয় বনে গমন করেছিলেন, তেমনি এই দেশ ছেড়ে বৌদ্ধদেরও আপন দৃষ্টি যেদিকে যায় সেদিকে চলে যাওয়া কর্তব্য। আর এই চলে যাওয়াতাই তারা চাই। মৈত্রী পোষণ দ্বারা অতীতে যেমন এই বঙ্গ থেকে বৌদ্ধরা হারিয়ে গেছিল তেমনি যে ভবিষ্যতে হবে না একথা কি বিশ্বাস করা যায়?

তাই, সেই একজন কে? কে সেই বৌদ্ধ? যে অন্তঃত ফিরোজ মান্না যে কাজটা করেছে সেটা ভুল করেছে তা দেখিয়ে দিতে বর্তমান দেশের প্রচলিত আইনের আশ্রই গ্রহণ করবেন।পত্রিকার প্রকাশ, সম্পাদকও ও প্রতিবেদকের নামে আদালতে একটা ধর্ম অবমাননা মামলা করবেন। আমরা তাদের ফাঁসি বা গর্দান চাই না। আমরা চাই তারা তাদের ভুল যেন বুঝতে পারে। যা লিখা বা প্রকাশ করা হয়েছে ভুল করেছে। পত্রিকার প্রকাশ, সম্পাদকও এর জন্য সমান ভুল করেছে। তাদেরও এই ভুল বুঝতে পারা দরকার। এভাবে লিখে বা প্রচার করে তারা যে স্বপ্নটা দেখছে তা মানব জাতির জন্য মঙ্গলজনক নয়। কেহ কাউকে ছোট বা হীন করে পৃথিবীর ইতিহাসে কেহ মহান হয়েছে তার একটাও নজির নেই। হবেও না।

পরিশেষে মিনতি রেখে একটা কথা বলে আজ লেখা শেষ করতে চাই, তুমি যে জাতিই বা ধর্মের হও না, ভিন্ন জাতি বা ধর্মের লোকের প্রতি তোমাকে অভদ্র হতে হবে কেন? তোমার মনুষ্যত্ব, তোমার জ্ঞান দেখেই মানুষ তোমার ধর্ম ও সমাজকে সম্মানের চোখে দেখবে।

Facebook Comments

বৌদ্ধদের আরো তথ্য ও সংবাদ পেতে হলে আমাদের ফেসবুক ফ্যান পেইজে লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন।: www.facebook.com/buddhisttimes

দি বুড্ডিস্ট টাইমস.কম একটি স্বতন্ত্র ইন্টারনেট মিডিয়া। এখানে বৌদ্ধদের দৈনন্দিন জীবনের বিষয়গুলোকেই তুলে আনার চেষ্টা করা হয়। পাশাপাশি যে কেহ লিখতে পারেন দি বুড্ডিস্ট টাইমস এ। দি বুড্ডিস্ট টাইমস এর সাথে লেখ-লেখিতে যুক্ত হতে চাইলে ব্যবহার বিধি ও নীতিমালা পড়ুন অথবা নিবন্ধন করুন
এখানে।

Recommended For You

Leave a Reply

error: অনুগ্রহ করে কপি/পেস্ট মনোভাব পরিহার করি নিজে লেখার যোগ্যতা অর্জন করুন।