Apr 3, 2016
31 Views
0 0

কোটি টাকার গোপন রহস্য

লিখেছেন:

শীলানন্দসুমনপ্রিয় থেরোঃ ইন্দ্রের একদিন ভিক্ষু দর্শনের ইচ্ছা জাগ্রত হয়েছিল, গভীর বনে গিয়ে এক সাধক ভিক্ষুকে দেখতে পেলেন। ভিক্ষুকে দেখে তিনি খুবই খুশি হলেন। সাধক ভিক্ষুর কাছে গিয়ে শ্রদ্ধা জানালেন এবং একপাশে বসলেন। সাধক ইন্দ্রের উপস্থিতি বুঝতে পেরে সাধনা শেষ করলেন, উভয়ে কুশল বিনিময় করলেন। ইন্দ্র জানতে চাইলেন সাধকের বনবাস জীবন সম্পর্কে, সাধক নম্র সুরে বললেন- আমি তো জ্ঞানে নবীন, ততোদূর যাওয়া হয় নি। তবে চেষ্ঠা করছি মাত্র (যদিও সাধক অনেক উচ্চ স্তরের মার্গ লাভী), ইন্দ্র জানতে চাইলেন এখানে আপনার বয়স কত ? সাধক তার কৌশুলী প্রশ্নের উত্তর দিলেন- এখানে মাত্র ৪১ বছরের সাধনা জীবন। ইন্দ্র যথা প্রশ্নের উত্তরে সন্তুষ্ঠ হলেন। আবার শ্রদ্ধা জানিয়ে বিদায় নিয়ে চলে গেলেন।

২য় দিন: ইন্দ্র আরেক বনে প্রবেশ করে আর এক সাধক ভিক্ষুর দেখা পেলেন। যথা নিয়মে সন্যাস জীবনে কত বছর জানতে চাইলেন। ভিক্ষু ৩৫ বছরের সন্ন্যাস জীবন বলে উত্তর দিলেন। তার কোন সহকারী বা শিষ্য-প্রশিষ্য আছে কি না জানতে চাইলেন, উত্তরে ভিক্ষু বললেন, আমি নিজেই একজন অনভিজ্ঞ শিষ্য মাত্র (যদিও তিনি একজন মার্গ ও ফল লাভী), আবার শিষ্য- প্রশিষ্য কিভাবে থাকবে। ইন্দ্র প্রশ্ন করলেন, আপনার গুরু কে? উত্তরে- তথাগত গৌতম। আমি তথাগত গৌতমের শিক্ষা ধারণ করছি, আর সাধনা করছি। আপনি বেশি কিছু জানতে চাইলে, গুরুর কাছে জেতবন আরামে যেতে পারেন। আগে নিজেকে জ্ঞান অর্জন করতে হয়, এই বলে সাধক অবিদ্যা, অবিদ্যা, অবিদ্যা তিনবার বলে কথা বন্ধ করলেন। (যখন সারিপুত্র ও মৌগ্গলায়ন সন্ন্যাস জীবনে বের হয়েছিলেন, তখন সারিপুত্র একদিন আশ্বজিত (মার্গ লাভী) ভান্তের দেখা পেলেন, তার সংকল্প জানতে পেরে নিজেকে বলেছিলেন নবীন ভিক্ষু)।

৩য় দিন: অপর এক গহীন বনে গেলেন। দেখতে পেলেন প্রচুর শিষ্য-প্রশিষ্য নিয়ে এক সাধক দেশনারত। ইন্দ্রও এক পাশে গিয়ে বসলেন। দেশনা শেষে সাধক ভিক্ষুর সাথে আলাপ করলেন। যথা নিয়মে জানতে চাইলেন, সন্ন্যাস জীবন সম্পর্কে। সাধক অকপটে বলতে সুরু করলেন তার সম্পর্কে, তার নামের আগে অনেক বিশেষণ লাগানো। নিজেকে অনেক যোগ্য ও দক্ষ সাধক বলে জাহির করলেন। তার অনেক প্রতিষ্ঠান, অনেক শিষ্য-প্রশিষ্য, উচ্চতর মার্গ লাভী ইত্যাদি। ইন্দ্র জানতে চাইলেন , তার সন্ন্যাস জীবন কত ? উত্তরে মাত্র ৭ মাস। ইন্দ্র আর বেশি কিছু না বলে প্রস্তান করলেন।

৪র্থ বার: অন্য এক বনে সাধকের সাক্ষাত পেলেন ইন্দ্র। কুশল বিনিময়ে তার সম্পর্কে জানতে চাইলেন। এই সাধক আরো বেশি চতুর, একমাত্র আমিই অল্প সময়ে মার্গ লাভ করতে পেরেছি, এবং গৃহী জীবনেও আমিই একমাত্র উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হতে বিদ্যা শিক্ষা শেষ করেছি ( বৌদ্ধ সাহিত্যে উল্লেখিত অন্গুলিমালের চেয়েও কম নয়)। তাই স্তর লাভে আমার বেশি সময় লাগেনি। ইন্দ্র জানতে চাইলেন এখানে বয়স কত? উত্তরে- মাত্র ১ মাস।

হে নবীন, তরুণ, ভিক্ষু-শ্রামণ তাই এত বেশি সময় নষ্ট না করে তাড়াতাড়ি বনে যাও। অতি অল্প সময়েই বন রাজ হতে পারবে। চারি পাশে দেখছ না, আজকে বনে ঢুকে, কাল বের হবে বন রাজ হয়ে।

সন্ন্যাস বন থেকে কিভাবে বের হতে হয় তাও দেখিয়ে দিয়েছে। আর কোনো কষ্ঠ নেই। তাদের কারো নামী-দামী গাড়ি, বড় বড় প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি। যদিও তাদের সুন্দর মুখ বাক্যে ভাসিত হয়- “ভিক্ষুদের বেশি কিছু লাগে না। আমার বলতে কিছু নেই, সব ত্যাগ কর”। (এর পরও দেখা যায়, নিজের নামে শুধু প্রতিষ্ঠান না, বিগা বিগা জমিও নিচ্ছেন !) আবার দুই-একটা অলৌকিক ঘটনা বলতে পারলে হলো, সেখানে মানুষের ঢল। দেখ না আমাদের দেশে ফকির বাবার দরবারে কি পরিমাণ মানুষ, কারণ তারা অলৌকিক ঘটনা বলে, পানি পরা, তেল পরা, মধু পরা দিয়ে সবাইকে মধু বানিয়ে, লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। মাঝে মধ্যে খবরে দেখা যায়- আজ রিক্সা চালক, কাল ফকির বাবা হয়ে কোটি টাকার মালিক। দেশের মানুষ কিছু কিছু ক্ষেত্রে বাদ-বিচার ছাড়াই দৌড়ে। এক সময় নিঃস্ব হয়ে পরে বুঝেন।

সম্প্রতি আমি একটি বই পড়েছি, যেখানে অরহত ভান্তের কথা বলা হয়েছে। বইটি রচনা করেছেন: সুনীতি রঞ্জন চাকমা, প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, চংড়াছড়ি জুনিয়র হাইস্কুল, দীঘিনালা, খাগড়াছড়ি। বইয়ের নাম: আর্যশ্রাবক শীলাননন্দ স্থবির ধুতাঙ্গ ভান্তের ত্যাগময় জীবন ও ধর্ম ছায়া- ১ম খন্ড।

এই বইয়ের ৫৫ পৃষ্ঠায় অলৌকিক ঘটনার কিছু কথা লেখা হয়েছে। যেমন: শ্রদ্ধেয় ভান্তে দিব্য দৃষ্টিতে দেখেন, অদৃশ্যে চলাচল করে, শরীর থেকে দিব্য জ্যোতি বের হয়, দেবতারা ভান্তের মাথার উপর দিব্য ছাতা ধরে থাকে, ভান্তের ধর্ম দেশনা অনুষ্ঠানে মারের পরাজয় ইত্যাদি। আমি লেখক মহোদয়ের কাছে কয়েকটি প্রশ্ন করতে চাই, আপনি বইতে যে লিখেছেন, ভান্তের অলৌকিক ঘটনাগুলো কি আপনি দেখেছেন? না কি ভান্তে নিজেই এই কথা গুলো আপনাকে বলেছিলেন ?

২নং এ লিখেছেন- “ভান্তে মানুষের অদৃশ্যে চলাচল করে”। আমরা এমনও শুনেছি যে, দেশে রাজনৈতিক গোলযোগের কারণে (হরতাল) অনেক গ্রামের অনুষ্ঠানে যেতে পারেন নি। যদি ভান্তের অদৃশ্যে চলাচল করে থাকেন, তাহলে এতগুলো ভক্তদের বিমুক করলেন কেন? ভান্তে কয়েক বছর আগেই নিমন্ত্রণ বা ফাং গ্রহণ করেন, ভবিষ্যতে কোনো অনুষ্ঠানে না গিয়ে থাকবে নাতো?

৪নং এ লিখেছেন-….“ভান্তে যে গাছের নিচে উপবিষ্ট ছিলেন, সেই গাছে বৃষ্টি না পড়ে, অঝোর ধারায় চার পাশে বৃষ্টির পানি পড়ছে”। এই দৃশ্য কি আপনি নিজ চোখে দেখেছেন? না কি শুনা কথা? কারণ আমি যতটুকু জানি সাধনায় অধিত বিষয় প্রকাশ করা নিষেধ। চারি পারাজিকায়, ৪নং এ বলা হয়েছে ( শ্রী বংশদীপ মহাস্থবির, ভিক্ষু-প্রাতিমোক্ষ, দ্বিতীয় সংস্করণ-১৯৯২ইং, ২৫-২৬পৃ.), কেউ লাভের আশায় সাধারণকে অলৌকিক কথা বলে, তাহলে ৪নং পারাজিকা আপত্তি গ্রস্থ হবেন। আমারতো মনে হয় না, আরহত ভান্তে, এই অলোকিক কথা বলে গুরুতর আপত্তি গ্রস্থ হবেন। আরও একটি বিষয় লক্ষনীয় যে, বইয়ের শুরুতেই বুদ্ধ মূর্তির ছবি, লাভী শ্রেষ্ঠ আরহত সীবলী মহাথের, তারপর অরহত শীলানানন্দ স্থবিরের ছবি ছাপানো হয়েছে।(এর অর্থ কি দাড়ায় ?)

১০নং এ লিখেছেন: ভান্তে ধর্ম দেশনা অনুষ্ঠানে মারের পরাজয় করতে পারেন। …. দায়কেরা ভান্তেকে জানালেন, অনুষ্ঠানে পেন্ডেলের কাজ সকালে শেষ করেছিলাম কিন্তু তুফান এসে ফেলে দিয়েছে। তখন ভান্তে তাদের বললেন, “তুফানে ক্ষতি করছে, মার সদ্ধর্ম দেশনায় ব্যাঘাত সৃষ্টি করতে চেয়েছিল।” ভান্তে যদি মার পরাজয় করতে পারেন, তাহলে তুফান কিভাবে ক্ষতি করতে পারে? ভান্তে রক্ষা করলেন না কেন? এটা কোন প্রকারের অলৌকিক ঘটনা ?

আশাকরি লেখক মহোদয় উক্ত প্রশ্নের উত্তর জানাবেন। কারণ অতীতে অনেক তথাকথিত অরহত দেখেছি, যিনি এই অরহতের আচারিয়া গুরু, তিনিও এক সময় বাংলাদেশী বৌদ্ধদের সর্বোচ্চ ধর্মীয়গুরু, মাননীয় সংঘরাজ ভান্তেকে তুচ্ছ মনে করেছিলেন, কথায় বলে “অতি দর্পে হত লংকা”, তখন তার প্রতিষ্ঠানে জনগনের বন্যা ছিল, আজ ফাঁকা, প্রতিষ্ঠান রক্ষা করতে হিম-সীম খাচ্ছেন।

সবার জয়্মঙ্গল কামনা করছি।

বি:দ্রঃ বইতে লেখক মহোদয়ের সাথে সরাসরি যোগাযোগের কোনো সুজুক রাখা হয় নি (ইমেইল বা ফোন নাম্বার), তাই এই লেখাটি কয়েকটি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করলাম, আশা করি লেখকের দৃষ্টি গোচর হবে, ধন্যবাদ।

সুমনপ্রিয় থেরো, Email: Cremac2016@gmail.com

Facebook Comments

বৌদ্ধদের আরো তথ্য ও সংবাদ পেতে হলে আমাদের ফেসবুক ফ্যান পেইজে লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন।: www.facebook.com/buddhisttimes

দি বুড্ডিস্ট টাইমস.কম একটি স্বতন্ত্র ইন্টারনেট মিডিয়া। এখানে বৌদ্ধদের দৈনন্দিন জীবনের বিষয়গুলোকেই তুলে আনার চেষ্টা করা হয়। পাশাপাশি যে কেহ লিখতে পারেন দি বুড্ডিস্ট টাইমস এ। দি বুড্ডিস্ট টাইমস এর সাথে লেখ-লেখিতে যুক্ত হতে চাইলে ব্যবহার বিধি ও নীতিমালা পড়ুন অথবা নিবন্ধন করুন
এখানে।
এক্সিকিউটিভ এডিটর । দি বুড্ডিস্ট টাইমস ডটকম
http://www.thebuddhisttimes.com

দি বুড্ডিস্ট টাইমস.কম একটি স্বতন্ত্র ইন্টারনেট মিডিয়া। এখানে বৌদ্ধদের দৈনন্দিন জীবনের বিষয়গুলোকেই তুলে আনার চেষ্টা করা হয়। পাশাপাশি যে কেহ লিখতে পারেন দি বুড্ডিস্ট টাইমস এ।

Leave a Comment

error: অনুগ্রহ করে কপি/পেস্ট মনোভাব পরিহার করি নিজে লেখার যোগ্যতা অর্জন করুন।