গৌতম বুদ্ধের অতীত জন্ম বৃত্তান্তঃ মহাধর্মপাল জাতক

Smiley face

প্রাচীন কালে বারাণসীর রাজা ছিলেন ব্রক্ষ্মদত্ত। তখন কাশীরাজ্যে ধর্মপাল নামে একটি গ্রাম ছিল। এই গ্রামে এক পন্ডিত ব্রাহ্মণ বাস করতেন। তিনি ছিলেন দশ কুশল ধর্ম আচরণকারী।তাঁকে লোকে বলত ধর্মপাল। তাঁর পরিবারের সব লোক ও দাস-দাসীরা পর্যন্ত দানশীলপরায়ণ ছিলেন। তারা শীল ও উপবাস ব্রত পালন করত।

বোধিসস্ত্ব এই বংশে পন্ডিত ব্রাহ্মণের পুত্ররুপে জন্মগ্রহণ করেন।তাঁর নাম রাখা হলো ধর্মপাল কুমার।তিনি বয়প্রাপ্ত হলে তাঁর পিতা তাঁকে বিদ্যাশিক্ষার জন্য তক্ষশিলায় এক আচার্যের কাছে পাঠালেন। আচার্যের পাঁচশত শিষ্য ছিল।ক্রমে বোধিসস্ত্ব সেইসব শিষ্যদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ হয়ে উঠলেন।

একদিন আচার্যের জ্যেষ্ঠ পুত্রের তরুণ বয়সে মৃত্যু হলো। আচার্য,জ্ঞাতি,বন্ধু ও ছাত্ররা সকলে কান্না করতে লাগলেন।একমাত্র ধর্মপাল কুমার বোধিসস্ত্ব রোদন করলেন না।তিনি শুধু হাসলেন।

আচার্য ধর্মপালকে হাসার কারণ কী জানতে চান।তখন ধর্মপার বলল, তাঁর বংশে কেউ তরুণ বয়সে মারা যায় না। এ কথার সত্যতা জানতে আচার্য একদিন একটি মৃত ছাগলের অস্থি নিয়ে ধর্মপালের বাড়ি গেলেন।ধর্মপাল মারা গেছে বলে আচার্য তাঁর পিতাকে বলল।কিন্তু ধর্মপালের পিতা বিশ্বাস করলেন না।তখন আচার্য ছাগলের অস্থি দেখিয়ে বলল,এ অস্থি ধর্মপালের।ধর্মপালের পিতা কোনোভাবে বিশ্বাস করল না।তখন আচার্য সত্যতা স্বীকার করল।

আচার্য এবার প্রসন্ন হয়ে বললেন,ব্রাহ্মণ, আপনার পুত্র জীবিত আছে।সে আমার সর্বশ্রেষ্ঠ শিষ্য এবং তারই ওপর আমার অন্য শিষ্যদের বিদ্যাশিক্ষার ভার দিয়ে আমি এখানে এসেছি। আপনার পুত্র আমাকে বলেছে, আপনার বংশে তরুণ বয়সে কারো মৃত্যু হয় না। আমি তখন আপনার কাছে তার কারণ জানতে চাই।এ কথা শুনে ব্রাহ্মণ যে যে গুনের প্রভাবে তাঁর বংশে অকাল মৃত্যু হয় না তার গুনগুলো বর্ণনা করলেন।তিনি বললেন, আমরা সৎ ও অসৎ ধর্মের কথা শুনে কখনো আসক্ত হই না। অসৎকে ত্যাগ করে,সদা সর্বদা সৎ এর ভজনা করি।তাই আমাদের বংশে তরুণ বয়সে কারো মৃত্যু হয় না।

দানের পূর্বে আমাদের মন সুপ্রসন্ন থাকে।প্রীতি ও শ্রদ্ধার সংঙ্গে দান করি।দানের পর আমরা কোনো অনুতাপ করি না।তাই তরুণের মরণ হয় না।শ্রমণ,ব্রাহ্মণ,পথিক,যাচক,

দরিদ্র,ভিখারি,দারস্থ হলে তাদের আহার ও পানাহারে তুষ্ট করি।সাধ্যমতো তাদের দান করি।

আমাদের বংশের স্বামীরা সতীব্রত, স্ত্রীরা পতিব্রতা। সমগুণে ব্রহ্মাচর্য পালন করি। এ বংশের সতী স্ত্রীর গর্ভে যে সন্তান জন্মায় সে মেধাবী, ধার্মিক, প্রজ্ঞাবান, সর্বশাস্ত্রবিদ ও দেবপরায়ণ হয়। মৃত্যুর পর সদ্ গতি লাভের আশায় সকলেই ধর্মপথে বিচরণ করে। যে দাস-দাসী আশ্রিত আছে তারাও ধর্মপথে চলে।

এরপর ব্রাহ্মণ বললেন, যে ধর্মপথে চলে, ধর্মই তাকে রক্ষা করে। বর্ষা ও রৌদ্রে ছাতা

যেমন মানুষকে রক্ষা করে তেমনি ধর্মপরায়ন ব্যক্তিকে ধর্ম রক্ষা করে। ধার্মিকের কখনো অকল্যাণ হয় না। তাই বলি আপনি যে অস্থি এনেছেন, তা অন্য কারো। আমার পুত্রের তরুণ বয়সে মৃত্যু হতে পারে না। এ কথা শুনে আচার্য পরমপ্রীত হয়ে ব্রাহ্মণের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তিনি ব্রাহ্মণকে বলেন, আমি আপনাকে পরীক্ষা করার জন্য ছাগ অস্থি এনেছিলাম। আপনার পুত্র সুস্থ আছ। এখন আপনি যে ধর্ম রক্ষা করেন সেই কথাগুলো অনুগ্রহ করে বলুন।

আমরা আর্যধর্ম পালন করি, চার আর্যসত্য, আর্য অষ্টাঙ্গিকমার্গ, ব্রহ্মবিহার, উপোসথ ব্রত, পঞ্চশীল পালন করি। আচার্য কয়েকদিন সেখানে অবস্থান করে তক্ষশিলায় ফিরে গেলেন। তারপর ধর্মপাল কুমারকে সমস্ত বিদ্যা দান করে তাকে বহু অনুচরসহ গৃহে পাঠিয়ে দিলেন।

  • উপদেশ : ধর্মপরায়ন ব্যক্তিকে ধর্ম রক্ষা করে।
Facebook Comments

বৌদ্ধদের আরো তথ্য ও সংবাদ পেতে হলে আমাদের ফেসবুক ফ্যান পেইজে লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন।: www.facebook.com/buddhisttimes

দি বুড্ডিস্ট টাইমস.কম একটি স্বতন্ত্র ইন্টারনেট মিডিয়া। এখানে বৌদ্ধদের দৈনন্দিন জীবনের বিষয়গুলোকেই তুলে আনার চেষ্টা করা হয়। পাশাপাশি যে কেহ লিখতে পারেন দি বুড্ডিস্ট টাইমস এ। দি বুড্ডিস্ট টাইমস এর সাথে লেখ-লেখিতে যুক্ত হতে চাইলে ব্যবহার বিধি ও নীতিমালা পড়ুন অথবা নিবন্ধন করুন
এখানে।

Recommended For You

Leave a Reply

error: অনুগ্রহ করে কপি/পেস্ট মনোভাব পরিহার করি নিজে লেখার যোগ্যতা অর্জন করুন।