কলকাতার প্রাচীন বৌদ্ধসংস্থা

Smiley face

হেমেন্দু বিকাশ চৌধুরীঃ কলকাতার প্রথম বৌদ্ধ বিহার ধর্মাঙ্কুর বিহার, প্রতিষ্ঠাতা কৃপাশরণ মহাস্থবির (১৮৬৫-1926১৯২৬)। অবশ্য কলকাতার সর্বসিদ্ধর কার থেকে বাঙালী বৌদ্ধদের একাংশ পূর্ববঙ্গের চট্টগ্রাম থেকে জীবিকা অর্জনের জন্য এসে প্রধানতঃ মধ্য কলকাতায় বসবাস করতেন। এরা এই অঞ্চলে ভাড়াবাড়িতে তিনটি অস্থায়ী বৌদ্ধ বিহার স্থাপন করেছিলেন ওয়ারিসবাগানে (মেটকাফ স্ট্রীট) আদি বিহার, মিঞাজান গলিতে (বোস্ট্রীট) মহানগর বিহার ও গুরিয়ামাথানায় (মলঙ্গা লেন) নবীন বিহার।

dharmankur_kalkata

krepasharon_mahatheraসে সময় এদেশের ধর্মীয় কার্যাদি পরিচলনার জন্য স্থয়িভাবে কোন বৌদ্ধ ভিক্ষু ছিলেন না। তরুণ ভিক্ষু কৃপাশরণ চট্টগ্রাম থেকে ১৮৮৬ খ্রীস্টাব্দের ১৫জুন কলকাতায আগমন করেন। তাপর থেকে তার মৃত্যুদিন (৩০এপ্রিল ১৯২৬) পর্যন্ত এই সুদীর্ঘ চারদশক কার কলকাতাকে কেন্দ্র করে ভারতে বৌদ্ধধর্মের পুনর্জাগরণে তিনি এক অবিস্মরণীয় ভূমিক াপালন করেন। কৃপাশরণ কলকাতায় এস প্রথম ৭২/৭৩ নং মলঙ্গা লেনস্থি নবীন বিহারে ওঠেন এবং এই বিহারে তিনি তিন বৎসর অতিবাহিত করেন। ১৮৮৯ খ্রীস্টাব্দ থেকে তিনি ২১/২৬ নং বো স্ট্রীট স্থি মহানগর বিহারে বসবাস আরম্ভ করেন। এখানে অবস্থানকালেই তিনি পূর্বোক্ত তিন বিহারের উপাসক-উপাসিকাদের সংগঠিত করে ১৮৯২ ষ্রীস্টাব্দের আশ্বিনী পূর্ণিমা তিথিতে (বুধবার ২১শে আশ্বিন, ১২৯৯, ৫ অক্টোবর, ১৮৯২) বৌদ্ধ ধর্মাঙ্কুর সভা প্রতিষ্ঠা করে কলকাতা তথা ভারতে বুদ্ধবাণী চর্চার ভিত্তি স্থাপন করেন। বর্তমানে এই সভা বাঙালী বৌদ্ধদের প্রাচীন ও প্রধান সংস্থারুপে স্বীকৃত।

কঠোর পরিশ্রমী কৃপাশরণ ১৯০০ খ্রীস্টাব্দে চার হাজার টাকার বিনিময়ে কলকাতার বহুবাজার অঞ্চলে ললিত মোহন দাস লেনে (বুড্ডিস্ট টেম্পল স্ট্রীট) পাঁচ কাঠা পরিমাণ জমি ক্রয় করে। ১৯০২ খ্রীস্টাব্দে ধর্মাঙ্কুর বিহারের নির্বাণকার্য শুরু করেন। ১৯০৩ খ্রীস্টাব্দে আষাঢ়ী পূর্ণিমা দিন ধর্মাঙ্কুর বিহারে শুভ উদ্বোধন হয়। এরপর ঐকান্তিক নিষ্ঠা সহকারে কৃপাশরণ বুদ্ধবাণী প্রচারে আত্মনিয়োগ করেন। ১৯০৮ খ্রীস্টাব্দে (আষাড় ১৩১৫) তাঁর পরিচালনায় এবং গুণালঙ্কার মহাস্থবির ও শ্রমণ পূর্ণানন্দের যুগ্ন সম্পাদনায় ‘জগজ্জ্যোতি’ পত্রিকা প্রকাশিত হয় এবং অচিরেই এই পত্রিকা কলকাতার বিজ্ঞসমাজে সমাদৃত হয়। জগজ্জ্যোতিই কলকাতা থেকে প্রথম বাংলায় প্রাকশিত বৌদ্ধ দর্শন ও সংস্কৃতিমূলক পত্রিকা। এই সালেই কৃপাশরণ ধর্মাঙ্কুর বিহারে ত্রিপিটক সহ দুর্লভ ও দুষ্প্রাপ্য বৌদ্ধগ্রন্থদি সংগ্রহ করে এক গ্রন্থাগার প্রতিষ্টা করেন, যা পরিবর্তী কালে গুনালঙকার লাইব্রেরী নামে পরিচিত লাভ করে।

কৃপাশরণ তৎকালীন কলকাতার অনেক সুপরিচিত ব্যক্তিত্বের সহযোগিতা লাভে সমর্থ হন।এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন- স্যার আশুতোষ মুখার্জী, বহুভাষাবিদ হরিনাথ দে, ইন্ডিয়ান মিরর পত্রিকার সম্পাদক নরেন্দ নাথ সেন, সংস্কৃত কলেজের অধ্যক্ষ মহামহোপাধ্যায়, সতীশ চন্দ্র বিদ্যাভূষণ, বিচারপতি সারদাচরণ মিত্র, আইনবিদ ভূপেন্দ্র শ্রী ঘোষ, শিল্পাচার্য অবনীন্দনাথ ঠাকুর, কাশিমাজারের মহারাজ মনীন্দ্র চন্দ্র নন্দী, বগুড়ার নবাব আবদুল শোভাহান চৌধুরী প্রমুখ।

  • চলমান…..
  • স্বামী বিবেকানন্দ প্রবর্তিত রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের মাসকি বাঙলা মুখপত্র উদ্বোধন পত্রিকার কলতাতার তিনশত তম বর্সে পদার্পণ উপলক্ষে প্রকাশিত বিশেষ সংখ্যা (ভাদ্র ১৩৯৬, ৯১তম সবর্ষ) থেকে পুণঃ প্রকাশ।
  • লেখক: কলকাতা ‘জজ্জ্যোতি’ পত্রিকার সম্পাদ এবং একজন সুপ্রতিষ্ঠিত প্রবন্ধকার।
Facebook Comments

বৌদ্ধদের আরো তথ্য ও সংবাদ পেতে হলে আমাদের ফেসবুক ফ্যান পেইজে লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন।: www.facebook.com/buddhisttimes

দি বুড্ডিস্ট টাইমস.কম একটি স্বতন্ত্র ইন্টারনেট মিডিয়া। এখানে বৌদ্ধদের দৈনন্দিন জীবনের বিষয়গুলোকেই তুলে আনার চেষ্টা করা হয়। পাশাপাশি যে কেহ লিখতে পারেন দি বুড্ডিস্ট টাইমস এ। দি বুড্ডিস্ট টাইমস এর সাথে লেখ-লেখিতে যুক্ত হতে চাইলে ব্যবহার বিধি ও নীতিমালা পড়ুন অথবা নিবন্ধন করুন
এখানে।

Recommended For You

Leave a Reply

error: অনুগ্রহ করে কপি/পেস্ট মনোভাব পরিহার করি নিজে লেখার যোগ্যতা অর্জন করুন।