Oct 5, 2016
65 Views
0 0

চাকমা রাজ বিহার

লিখেছেন:

বাংলাদেশের বৌদ্ধ ইতিহসাস বহু প্রাচীন এবং ঐতিস্য সমৃদ্ধ।প্রাচীনকাল হতে এদেশে গড়ে উঠেছে বৌদ্ধ বিহার। অশোকের পূর্বে এতদঞ্চলে বৌদ্ধবিহার প্রতিষ্ঠার ইতিহাস বিভিন্ন গ্রন্থে পাওয়া গেলেও গুপ্ত ও পাল পর্বে এখানে বৌদ্ধবিহার প্রতিষ্ঠার আধিক্য দেখা যায়। কিন্তু পাল পর্বের অবসানে সেন, বর্মণ এবং আরও পরে তুর্কী মুসলমানদের আগমন, তাদের অত্যাচার ও ধর্মান্তরিকরণ ইত্যাদি কারণে এবং রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এ দেশের বৌদ্ধধর্ম ও সম্প্রদায় রাজনৈতিক, ধর্মীয়, অর্থনেতিক ও সামাজিক দিক থেকে এক চরম সংকটাপন্ন অবস্থায় এসে পৌঁছে। তথাপি স্বীয় অতীত ঐতিহ্য  বজায় রাখতে গিয়ে এই পরিবেশেও বৌদ্ধদের সম্মিলিত সার্বিক প্রচেষ্টায় কোন কোন বিহার স্বীয় অস্থিত্ব বজায় রাখতে সক্ষম হলেও বেশ কিছু তা পারেনি। যেগুলি পারেনি সেগুলির অনেকটা আজ ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে। এ অবস্থায় বাংলাদেশে বৌদ্ধধর্মের শেষ আশ্রয়স্থল চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ির অনেক বিহার পরিবর্তনশীলতার বিভিন্ন স্তর পার হয়ে আসায় সেগুলির আকর্ষণ আগের তুলনায় অনেক হ্রাস পেয়েছে। তথাপি আর্কষণ ও বৈশিষ্ট্যহীন অবস্থায় থেকেও সেই বিহার গুলিই এদেশে বৌদ্ধধর্মের চিরজাগতিক কথা ঘোষণা করছে।

আমাদের বৌদ্ধধর্মের চিরজাগরুক স্মৃতি চিহ্ন বৌদ্ধ বিহার নিয়ে অনলাইন ভিত্তিক বৌদ্ধ মুখপত্র ‘দি বুড্ডিস্ট টাইমস’ –নতুন একটি ধারাবাহিক তথ্যচিত্র অনুষ্ঠান শুরু করেছে।

অনুষ্ঠানের নামকরণ করা হয়েছে ‘আমাদের বিহার”। অনুষ্ঠানের এটি প্রমথ পর্ব। প্রথম পর্বে এমন একটি বিহারকে উপস্থাপন করার জন্য নির্বাচন করা হয়েছে যে বিহারটি এদেশের প্রাচীন বৌদ্ধ জনগোষ্টী চাকমা সম্প্রদায়ের বহু সুখ-দুঃখের স্মৃতি ও ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে আছে।

বিহারটি রাঙ্গামাটি জেলা শহরের ‘চাকমা রাজ বিহার”।

  • চাকমা রাজ বিহার

রাঙ্গামাটি জেলা সদরে ১০২নং মৌজায় ১৯৬১ সালে চাকমা রাজা ত্রিদিব রায় ৬ একর ভিটার উপর বর্তমান বিহারটি নির্মাণ করেন।

বর্তমান বিহার হতে ৬ মাইল পূর্ব দক্ষিণে মায়নি রিজাবে গৌতমমুনিরাজ বিহার নামে বুদ্ধ গয়া মন্দিরের অনুকরণে অত্যন্ত চমৎকার কারুকার্য খচিত এ বিহারটি ১২৬৭ মগাব্দে (১৯০৫ খ্রি:) রাজা ভূবন মোহন রায় প্রতিষ্ঠা করেন। কিন্তু কাপ্তাই জল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে কৃত্রিম হৃদ প্রতিষ্ঠায় সেবিহার ও রাজবাড়ি জলের নিচে চলে যাওয়া।

সম্ভবত পানির নিচের তলিয়ে যাওয়া সেই গৌতম মুনিরাজ বিহারটি ছিল বাংলাদেশে সর্ব প্রথম বুদ্ধগয়া মন্দিরের কারুকার্য খচিত অনুকৃতি।

রাজা ভূবন মোহন রায় তৎকালীন সময়ে এতদঞ্চলের সর্ব বৃহৎ ব্রোঞ্জমুর্তি এ বিহারে প্রতিষ্ঠা করেন। জানা যায় তিনি (রাজা ভূবন মোহন রায়) বহু অর্থ ব্যয়ে বার্মার রাজধানী রেঙ্গুনে লোক পাঠিয়ে এ অনন্য সুন্দর ব্রোঞ্জ মুর্তিটি সংগ্রহ করেন। ১৯৬১ সালে বিহার ও রাজবাড়ির স্থান পরিবর্তনরে সময়  রাজা ভূবন মোহন রায় কর্তৃক রেঙ্গুন হতে ভুমির্স্প মুদ্রার ৬ ফুট ৪ ইঞ্চি বৃহদকার ব্রোঞ্জমুর্তিটি ৪ ফুট ২ ইঞ্চি উচু ও ৯৭ ফুট আতাকৃতির বেদীর উপর বর্তমান এ বিহারে তা প্রতিষ্ঠা করা হয়।

বর্তমান বিহারটি কোনরূপ কারুকার্যহীন, মোটেই আকষর্ণীয় নয়।

এই বিহারে আছে সংস্কৃত ও পালি শিক্ষা বোর্ড হতে স্বীকৃতিসহ পালি মহাবিদ্যালয়। ৭০০০ খানা গ্রন্থের একটি পাঠাগার। যদিও জানা যায় ১৯৬০ সালে বিহার ও রাজবাড়ি স্থানান্তর এবং ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা সংগ্রাম চলাকালে অনেক মূল্যবান গ্রন্থ নষ্ট হয়ে গেছে। তার পরও এখন যা আছে তা মোটেই আশাব্যঞ্জক নয়।

রাজ বিহার হিসাবে এ বিহারটির মান আরও উন্নত এবং পাঠাগারসহ সমাজ উন্নয়নের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে আরও ব্যাপক ভুমিকা থাকা উচিত।

Facebook Comments

বৌদ্ধদের আরো তথ্য ও সংবাদ পেতে হলে আমাদের ফেসবুক ফ্যান পেইজে লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন।: www.facebook.com/buddhisttimes

দি বুড্ডিস্ট টাইমস.কম একটি স্বতন্ত্র ইন্টারনেট মিডিয়া। এখানে বৌদ্ধদের দৈনন্দিন জীবনের বিষয়গুলোকেই তুলে আনার চেষ্টা করা হয়। পাশাপাশি যে কেহ লিখতে পারেন দি বুড্ডিস্ট টাইমস এ। দি বুড্ডিস্ট টাইমস এর সাথে লেখ-লেখিতে যুক্ত হতে চাইলে ব্যবহার বিধি ও নীতিমালা পড়ুন অথবা নিবন্ধন করুন
এখানে।
এক্সিকিউটিভ এডিটর । দি বুড্ডিস্ট টাইমস ডটকম
http://www.thebuddhisttimes.com

দি বুড্ডিস্ট টাইমস.কম একটি স্বতন্ত্র ইন্টারনেট মিডিয়া। এখানে বৌদ্ধদের দৈনন্দিন জীবনের বিষয়গুলোকেই তুলে আনার চেষ্টা করা হয়। পাশাপাশি যে কেহ লিখতে পারেন দি বুড্ডিস্ট টাইমস এ।

Leave a Comment

error: অনুগ্রহ করে কপি/পেস্ট মনোভাব পরিহার করি নিজে লেখার যোগ্যতা অর্জন করুন।