জাতীয় পাঠ্যবইয়ে সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্পঃ অসাম্প্রদায়িক জাতি গঠনে অন্তরায়

0 Posted by - June 11, 2017 - মুক্তমত
Smiley face

আর্য্য পথ ভান্তেঃ শিক্ষিত, প্রগতিশীল, মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তবুদ্ধির ব্যক্তিগণের মতে, আপনি মানুন আর না-মানুন, বাংলাদেশ সরকারকে মৌলবাদীদের কাছে ভদ্র ভাষায় ‘নমনীয়’ আর রূঢ় ভাষায় ‘গোলাম’ হতে হয়েছে যা সরকারের সাম্প্রতিক কার্যাবলী দিয়েই স্পষ্ট। তাদের অভিযোগ নিয়ে এই স্ট্যাটাসটি নয়।

পাঠ্যবই থেকে যখন স্বনামধন্য কবি-লেখকদের লেখা বাদ দিয়ে ইসলামী লেখা অন্তর্ভূক্ত করা হয় তখন তাদের অভিযোগ অস্বীকার করার যো থাকে না। কোন ক্লাসের কোন বইয়ে কি কি সংযোজন-বিয়োজন হয়েছে সেসব নিয়ে ইতিপূর্বে অনেকেই বিস্তারিত পোস্ট করেছেন। এগুলো সাধারণত ধর্মীয় বইগুলোতেই মানায়। অথচ ধর্ম বিষয়টিতে সে লেখাগুলো না থেকে সরাসরি জেনারেল বইয়ে অন্তর্ভূক্ত করা কতটা যৌক্তিক? না, এই অভিযোগ নিয়েও এই স্ট্যাটাসটি নয়।

তবে কি বিষয়ে এই স্ট্যাটাস?

ব্যাপারটা হলো সরকারের সাম্প্রদায়িক ও নীচু মনোভাব নিয়ে দুটো মনের কথা বলা। একজন ব্যক্তি যখন অন্য কোনো একজনের ধর্ম নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ, কটু কথা কলে তখন সেটা কেবল তার নিজস্ব মতামত, তার চারিত্রিক কালিমা। কিন্তু যখন একটা জাতীয় পাঠ্যবইয়ে কোনো সম্প্রদায় ও তাদের ধর্ম নিয়ে গাঁজাখুরি গল্প লেখা হয়, কুৎসিত দৃষ্টিভঙ্গীর প্রকাশ পায়, ইতর শ্রেণীতে নামানো হয় তখন সেই সরকারকে সাম্প্রদায়িক সরকার না বলে অন্য কি উপাধিতে ভূষিত করা যায় তা আমার জানা নেই। যেখানে কেউ সেসব বললে সরকারের পক্ষ থেকে নিষেধ করা উচিত সেখানে যখন সরকার সেটা নিয়ে কোনো উচ্যবাচ্য করে না (নিরবতা মানেই তো সম্মতি বুঝাচ্ছে) তখন সে সরকারকে কতটা উদার চেতনার বলা যায়?

ছবিগুলো দেখুন, কিভাবে এ সমস্ত পাঠ্যপুস্তক ব্যবসায়ীরা সাম্প্রদায়িকতা ও হীন মানসিকতার বিষবাষ্প ছড়াচ্ছে। অবিলম্বে জাতীয় পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের সদস্য দ্বারা এসব বই মনিটরিং করা উচিত। সরকারী পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগ না থাকায়, এরা যা ইচ্ছা তা লিখে, যা নয় তা লিখে মানুষের নৈতিকতাকে কোথায় নামাচ্ছে? একটি জাতির স্তম্ভ হচ্ছে শিক্ষা। যেখানে শিক্ষাটাই গোড়ায় গলদ থাকে সেখানে সুশিক্ষিত, অসাম্প্রদায়িক জাতি কিভাবে গড়ে উঠবে?

(বিঃদ্রঃ জানি, আমার এ হাহাকারের কোনো মানে তাদের কাছে নেই। তবুও মহাকালের অনন্ত পথে যখন প্রশ্নের সম্মুখীন হবো তখন অন্তত নিজের বিবেকের কাছে পরিষ্কার থাকবো যে, আমার যতটুকু সম্বল ততটুকু চেষ্টা করেছি)

Facebook Comments

বৌদ্ধদের আরো তথ্য ও সংবাদ পেতে হলে আমাদের ফেসবুক ফ্যান পেইজে লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন।: www.facebook.com/buddhisttimes

দি বুড্ডিস্ট টাইমস.কম একটি স্বতন্ত্র ইন্টারনেট মিডিয়া। এখানে বৌদ্ধদের দৈনন্দিন জীবনের বিষয়গুলোকেই তুলে আনার চেষ্টা করা হয়। পাশাপাশি যে কেহ লিখতে পারেন দি বুড্ডিস্ট টাইমস এ। দি বুড্ডিস্ট টাইমস এর সাথে লেখ-লেখিতে যুক্ত হতে চাইলে ব্যবহার বিধি ও নীতিমালা পড়ুন অথবা নিবন্ধন করুন
এখানে।

No comments

Leave a reply

error: অনুগ্রহ করে কপি/পেস্ট মনোভাব পরিহার করি নিজে লেখার যোগ্যতা অর্জন করুন।