Apr 3, 2016
48 Views
0 0

ধম্মপদের ১৬৪ গাথা অনুসারে বুদ্ধ গুরুবাদ সর্ম্পকে কি বলেন?

লিখেছেন:

যো সাসনং অরহং অরিয়ানংধম্মজীবিনং।

পাটিক্কোসতি দুম্মেধো দিটঠি নিসায় পাপিকং।

ফলানি কটঠ্কসসে’ব অত্তহঞঞায় ফল্লতি।।

যে ধর্মজীবী আর্য তথা অর্হৎদের শাসন (ধার্মিক পন্থা) এর নিন্দা করে, দুর্বুদ্ধি পাপময় মিথ্যাদৃষ্টিতে যুক্ত সেই ব্যক্তি তেমন ভাবে নিজেকে ধ্বংস করে যেভাবে বাঁশ গাছের ফল বাঁশকে নষ্ট করে দেয়।

== শ্রাবস্তীর এক উপাসিকা কাল স্থবিরকে নিজ পুত্রের মতো ভেবে সবসময় তার আপ্যায়ন ও সেবা করত। কাল স্থবির ভাবল যদি উপাসিকা বুদ্ধের উপদেশ শোনে তাহলে তাকে আর আদর আপ্যায়ন করবে না। সে উপাসিকাকে বুদ্ধের উপদেশ শোনার অনুমতি দিত না। একদিন যখন পড়শিরা বুদ্ধের উপদেশের প্রশংসা করল তখন আর উপাসিকা নিজেকে সামলাতে পারল না এবং বুদ্ধে ধর্মসভায় চলে গেল। এই দেখে স্থবিরও সেখানে চলে গেল ও বুদ্ধকে বলতে লাগল,‘এ মূর্খ, সূক্ষ্ম ধর্মোপদেশ বুঝতে পারবে না, একে গুরুগম্ভীর উপদেশ না দিয়ে দানশীলতা সম্বন্ধে উপদেশ দিন।’ তথাগত স্থবির কালের মনের অবস্থা বুঝতে পেরে বলরেন, ‘মুমতি, তুই নিজের মন্দ উদ্দেশ্যের জন্য বৌদ্ধধর্মের নিন্দা করছিস, নিজের পতনের জন্য চেষ্টা করছিস।’ এই বলে বুদ্ধ উক্ত গাথাটি বলেছিলেন।

আজও এমন গুরু আছে যারা আমার হাত থেকে বেরিয়ে যাতে না যায় এমন ভেবে নিজেদের অনুগামীদের অন্য গুরুদের কাছে উপদেশ শুনতে পাঠায় না। তারা অন্য গুরুদের নিন্দা করে। আজ ধর্মীয় কেন্দ্রগুলিতে এর এক অনিবার্য বিধান হয়ে গেছে। অন্য গরুদের অন্য দর্শনকে না পড়ে, না বুঝে শাস্বত দর্শন, উচ্ছেদ দর্শন আদি বলে হাসি তামাশা করা হয়। জিজ্ঞাসা করলে বোঝা যায় যে এই করে ওরা নিজেদের দর্বলতাকেই দেখায়। যে অন্যদের নিন্দা করে সে সর্বপ্রথম নিজের ধর্মের নিন্দা করে। নিজের অন্তরের ঈর্ষাও কপটতাকেই দেখায়। বিষয়টা এ রকম যে, দুই দোকানদার একই জিনিসের পাশাপাশি দোকন দিয়েছে। একজনের কাছে জিনিসটা চাইলে তার কাছে না থাকলেও সে পাশের দোকানে যেতে বলবে না। বরং অন্য কোও দোকানের নাম বলবে বা বলবে এই জিনিসটা এই শহরে পাওয়া যাবে না। একইভাবেই ধর্মগুরুদরেও নিজেদের ব্যবসা চলে। কেউ অন্যকে মানতে রাজি নয়্ এই রকম গুরু আমাদের কী উপকার করতে পারবে? তেমনই শিষ্যও নিজের গুরুর গুণকীর্তনের অতিরিক্ত অন্য কিছু শুনবে না। শোনালেও বলবে, হ্যাঁ আমার গুরুও এ রকমই বলে, আমাদের শাস্ত্রেও এমনই আছে। নতুন কিছু জানলে তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করবে যে ওটা অন্য দর্শন থেকে নিয়ে বলা হচ্ছে বা বলবে ওতে আমাদের কিছু যায় আসে না।

Facebook Comments

বৌদ্ধদের আরো তথ্য ও সংবাদ পেতে হলে আমাদের ফেসবুক ফ্যান পেইজে লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন।: www.facebook.com/buddhisttimes

দি বুড্ডিস্ট টাইমস.কম একটি স্বতন্ত্র ইন্টারনেট মিডিয়া। এখানে বৌদ্ধদের দৈনন্দিন জীবনের বিষয়গুলোকেই তুলে আনার চেষ্টা করা হয়। পাশাপাশি যে কেহ লিখতে পারেন দি বুড্ডিস্ট টাইমস এ। দি বুড্ডিস্ট টাইমস এর সাথে লেখ-লেখিতে যুক্ত হতে চাইলে ব্যবহার বিধি ও নীতিমালা পড়ুন অথবা নিবন্ধন করুন
এখানে।
এক্সিকিউটিভ এডিটর । দি বুড্ডিস্ট টাইমস ডটকম
http://www.thebuddhisttimes.com

দি বুড্ডিস্ট টাইমস.কম একটি স্বতন্ত্র ইন্টারনেট মিডিয়া। এখানে বৌদ্ধদের দৈনন্দিন জীবনের বিষয়গুলোকেই তুলে আনার চেষ্টা করা হয়। পাশাপাশি যে কেহ লিখতে পারেন দি বুড্ডিস্ট টাইমস এ।

Leave a Comment

error: অনুগ্রহ করে কপি/পেস্ট মনোভাব পরিহার করি নিজে লেখার যোগ্যতা অর্জন করুন।