ধর্মান্তরিত বৌদ্ধরাই ভারতে শিক্ষা তথা বিভিন্ন ক্ষেত্রে এগিয়ে

Smiley face

মনু মৌদগিলঃ 8৮.৪ মিলিয়নেরও বেশি বৌদ্ধ রয়েছে ভারতে। আর তাদের ৮৭% হচ্ছে অন্যান্য ধর্ম থেকে ধর্মান্তরিত। বেশিরভাগ দলিত যারা হিন্দু জাতি দাঙ্গা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য ধর্ম পরিবর্তন করেছেন। অবশিষ্ট 13% বৌদ্ধ উত্তর-পূর্ব এবং উত্তরাঞ্চলীয় হিমালয় অঞ্চলের প্রথাগত সম্প্রদায়ের অন্তর্গত।

আদমশুমারির তথ্য বিশ্লেষণের ভিত্তিতে দেখা যায় ভারতের ধর্মান্তরিত বৌদ্ধরা যারা নিউ বুদ্ধিস্ট নামে খ্যাত তারা সাধারণ হিন্দুর তুলনায় শিক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এগিয়ে।

৮৭% ধর্মান্তরিত বৌদ্ধদের মধ্যে বেশিরভাগই দলিত সম্প্রদায়ের লোক। গণনা অনুযায়ী, বর্তমানে বৌদ্ধদের সাক্ষরতার হার ৮১.২৯% যা জাতীয় গড়ের(৭২.৯৮%) তুলনায় বেশি। হিন্দুদের মধ্যে সাক্ষরতার হার ৭৩.২৭%।

“৫ই সেপ্টেম্বর, ২০১৭ তারিখে সাহারানপুর সহিংসতার অভিযোগে সংগঠিত কর্মী সংগঠন ভিম আর্মি’র নেতা সাতপাল তানওয়ার বর্তমানে দলিতদের বৌদ্ধ ধর্মে রূপান্তর নিয়ে বলেন ” বেশীরভাগ দলিত যারা প্রসাশনের উচ্চ স্থরে কাজ করছেন তাদের অধিকাংশ বৌদ্ধ। দলিতরা দলে দলে বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করছে কারণ তারা বৌদ্ধধর্মের উপর আস্থা রাখতে পারছে। কারণ সেখানে বর্ণবৈষম্য নেই, নেই মানুষে মানুষে ভেদাভেদ “।

উত্তর-পূর্বের ঐতিহ্যগত সম্প্রদায়গুলির মধ্যে বিশেষ করে মিজোরামে ৪৮.১১% এবং অরুণাচল প্রদেশে ৫৭.৮৯%, বৌদ্ধদের শিক্ষার হার গড় শিক্ষার হারের তুলনায় কম।

অন্যদিকে, ছত্রিসগড় ৮৭.৩৪%, মহারাষ্ট্র ৮৩.১৭% এবং ঝাড়খন্ড ৮০.৪১%  এ বৌদ্ধদের শিক্ষার হার অত্যাধিক। ধর্মান্তরের আন্দোলন মহারাষ্ট্রতেই সবচেয়ে বেশি, মধ্যপ্রদেশ, কর্ণাটক এবং উত্তরপ্রদেশ এর অবস্থান এর পরেই।

মহারাষ্ট্রের গল্পটি অনন্য কারণ বৌদ্ধদের মোট জনসংখ্যার বেশীরভাগই এখানে অবস্থান করছেন। ভিমরাও আম্বেদকরের বাড়ী এখানেই। তিনি ১৯৫৬ সালে তার ছয়লক্ষ (৬,০০,০০০/-) অনুসারী নিয়ে বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। এখনো সেই ধর্মান্তরের ধারা অব্যাহত রয়েছে যদিও নানা সময় তাদের উপর বাধা আসে বলে এখন তা তুলনামূলক ভাবে কম বলা যায়।

উত্তর প্রদেশে ৬৮.৫৯%বৌদ্ধ শিক্ষিত, যেখানে মোট জনসংখ্যার শিক্ষার গড় ৬৭.৬৮% এবং অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ৬০.৮৮%  তুলনায় প্রায় আট শতাংশ বেশি।

ভারতে বৌদ্ধ মহিলাদের সাক্ষরতা মোট জনসংখ্যার ৬৪. ৬৩% । তথ্যানুসারে নিউ- বুদ্ধিস্ট রাষ্ট্রগুলির মধ্যে, উত্তর প্রদেশের ৫৭.০৭% এবং কর্ণাটক ৬৪.২১%  মোট জনসংখ্যার তুলনায় মহিলা সাক্ষরতার হার কম দেখায়, তবে এই দুই রাজ্যে শ্রমজীবিদের তুলনায় এটি এখনও অনেক বেশি।

আদমশুমীরা অনুযায়ী ভারতে বৌদ্ধদের জন্মনিয়ন্ত্রণের হার তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। প্রতি একশত জন জনসংখ্যার জন্য, বৌদ্ধদের গড়ে তুলনায় দুইটি শিশু কম।

একটা প্রশ্ন চলে আসতেই পারে ভারতের বৌদ্ধরা কি শিক্ষার প্রতি খুব আগ্রহী নাকি দলিতরা শিক্ষিত হয়ে ভাল/মন্দ বিবেচনা করে বৌদ্ধ ধর্মে ধর্মান্তরিত হচ্ছে?

ভারতে মোট জনসংখ্যার ৩১ভাগ শহরে বাস করে অন্যদিকে ৪৩% বৌদ্ধ শহরে বাস করে।

মহারাষ্ট্রের মধ্যে, বৌদ্ধদের মধ্যে সাক্ষরতার হার, নগরীকরণের মাত্রা এবং শিশু অনুপাত অন্যদের তুলনায় ভাল।

মহারাষ্ট্রের বৌদ্ধদের মধ্যে শিক্ষিত হওয়ার জন্য আম্বেদকারের ডাক এবং কিছু সামাজিক অবস্থাকে কারণ হিসেবে বলা যেতে পারে।

আম্বেদকরের সময় সেখানকার অদিবাসীদের কোনও নির্দিষ্ট ঐতিহ্যবাহী পেশা ছিল না। তারা প্রায়শই তাদের গ্রামগুলির সীমান্তে থাকতেন এবং পাহারাদার, দূত, দেওয়ালের ম্যান্ডার্স, সীমান্ত বিরোধের বিচারক, রাস্তার ঝাড়ুদার এবং অন্যান্য কর্মী হিসাবে কাজ করতেন।

আম্বেদকারের বাবা সহ তাদের মধ্যে অনেকেই ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। এমনকি আম্বেদকর বৌদ্ধধর্মে দীক্ষিত হওয়ার আগে, তিনি দলিতদের শিক্ষা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করেন।

“কৃষি জমির অভাব বা ঐতিহ্যবাহী পেশার অভাব ইত্যাদি মহারাস্ট্রে শিক্ষার প্রসারে ভুমিকা রাখে,” পুণে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক নিতিন তাগাডেন একথাই বলেন। তিনিমহারাষ্ট্রের নব্য-বৌদ্ধদের অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়ে গবেষণা করেছেন।

নিউ-বুদ্ধিস্টরা শিক্ষার মাধ্যমে তাদের উন্নত সামাজিক মর্যাদা জাতিগত অর্থনীতিতে অনুন্নত সম্প্রদায়ের চেয়ে আরও বেশি অবদান রাখছে। তাদের কর্মসংস্থানের অনুপাত ৪৩.১৫% যা মোট সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ৪০.৮৭% এবং জাতীয় গড় ৩৯.৭৯% এর চেয়েও বেশি।

Facebook Comments

বৌদ্ধদের আরো তথ্য ও সংবাদ পেতে হলে আমাদের ফেসবুক ফ্যান পেইজে লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন।: www.facebook.com/buddhisttimes

দি বুড্ডিস্ট টাইমস.কম একটি স্বতন্ত্র ইন্টারনেট মিডিয়া। এখানে বৌদ্ধদের দৈনন্দিন জীবনের বিষয়গুলোকেই তুলে আনার চেষ্টা করা হয়। পাশাপাশি যে কেহ লিখতে পারেন দি বুড্ডিস্ট টাইমস এ। দি বুড্ডিস্ট টাইমস এর সাথে লেখ-লেখিতে যুক্ত হতে চাইলে ব্যবহার বিধি ও নীতিমালা পড়ুন অথবা নিবন্ধন করুন
এখানে।

Recommended For You

Leave a Reply

error: অনুগ্রহ করে কপি/পেস্ট মনোভাব পরিহার করি নিজে লেখার যোগ্যতা অর্জন করুন।