May 26, 2016
19 Views
0 0

নিরব দুর্ভিক্ষ চলছে বান্দরবানের থানছির আদিবাসীদের ঘরে

লিখেছেন:

ভাতের চালের সঙ্কট দেখা দেওয়ায় রেমাক্রি ও তিন্দুতে অভাবি মানুষরা এখন বুনো আলু, ফলমূল, কলার মোচা খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন।

দুর্গম পাহাড়ি এলাকাতে চলতি বর্ষায় খাল ও ঝিরিতে পানি বৃদ্ধি পেয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হলে কেউ কেউ না খেয়ে মারা যাওয়ার শঙ্কাও প্রকাশ করছে স্থানীয়রা।

স্থানীয় ৮০ বছরের বৃদ্ধ রুইমন ম্রো জানিয়েছেন “আমরা বড় দুঃখে পড়েছি। ঘরে ভাত নাই। বন্য আলু সংগ্রহ করে খাই। কেউ খোঁজ-খবর না নিলে আমরা না খেয়ে মরে যাব।”

এমনি দুর্দশার কথা জানিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে দেশের শীর্ষ অনলাইন নিউজ পোর্টাল বিডিনিউজ।

bandarban-food

প্রতিবেদনে বলা হয়, অতিবৃষ্টির কারণে জুম চাষ করতে না পারায় এবং করলেও ফলন ভালো না হওয়ায় দুর্গম ইউনিয়ন রেমাক্রি ও তিন্দুতে বসবাসরত পাহাড়িরা চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন।

রেমাক্রি ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সীমান্ত এলাকায় পাড়া পাতোয়া, লিক্রি, ঞোয়েতং এবং বুলু পাড়ায় সঙ্কট সবচেয়ে বেশি বলে জানায় বিডিনিউজ।

৫৫ ত্রিপুরা পরিবারের জাপারাং পাড়ার সাজানো-গোছানো ঘরগুলোতে সৌর বিদ্যুৎ থাকলেও খাদ্য সঙ্কট সেখানেও। ওই পাড়ায় মাত্র ১০ পরিবারের ঘরে খাবার আছে বলে জানা গেছে।

এছাড়া রেমাক্রি ইউনিয়নে বড়মদক থেকে দেড়ঘণ্টা পায়ে হাঁটার দুরত্ব য়ংনং কারবারি পাড়া। সেখানে ১৭ ম্রো পরিবারে বাস।

ওই পাড়ার বাসিন্দা ৮০ বছরে রুইমন ম্রো বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা বড় দুঃখে পড়েছি। ঘরে ভাত নাই। বন্য আলু সংগ্রহ করে খাই। কেউ খোঁজ-খবর না নিলে আমরা না খেয়ে মরে যাব।”

রেমাক্রি ইউনিয়নে নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান মুইশৈথুই মারমা প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, তার ইউনিয়নে ১৩২০ পরিবার আছে। এর মধ্যে ১ হাজার পরিবার জুমিয়া। এর মধ্যে প্রায় ৯০০ পরিবারে খাদ্য সঙ্কটে রয়েছে।

তিন্দু ইউনিয়নে চেয়ারম্যান মংপ্রুঅং মারমা বলেন, তার ইউনিয়নেও ১২০০ পরিবারের মধ্যে ৭০০ পরিবারে অভাব চলছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিয়ানমার সীমান্তবর্তী ওই এলাকায় গত কিছু দিন ধরে খাদ্য সঙ্কটের খবর পেয়ে তা মেটাতে উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়ে বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলন করেছে জেলা প্রশাসন।

প্রশাসনের সূত্রে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে “ইতোমধ্যে রেমাক্রী ও তিন্দু ইউনিয়নে দুর্গত এলাকাগুলোতে ৪৬ মেট্রিকটন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে আরও বরাদ্দ দেওয়া হবে।”

যদিও এই বরাদ্দ চাল স্থানীয়রা পেয়েছে কি না প্রতিবেদন থেকে জানা যায়নি।

Facebook Comments

বৌদ্ধদের আরো তথ্য ও সংবাদ পেতে হলে আমাদের ফেসবুক ফ্যান পেইজে লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন।: www.facebook.com/buddhisttimes

দি বুড্ডিস্ট টাইমস.কম একটি স্বতন্ত্র ইন্টারনেট মিডিয়া। এখানে বৌদ্ধদের দৈনন্দিন জীবনের বিষয়গুলোকেই তুলে আনার চেষ্টা করা হয়। পাশাপাশি যে কেহ লিখতে পারেন দি বুড্ডিস্ট টাইমস এ। দি বুড্ডিস্ট টাইমস এর সাথে লেখ-লেখিতে যুক্ত হতে চাইলে ব্যবহার বিধি ও নীতিমালা পড়ুন অথবা নিবন্ধন করুন
এখানে।
এক্সিকিউটিভ এডিটর । দি বুড্ডিস্ট টাইমস ডটকম
http://www.thebuddhisttimes.com

দি বুড্ডিস্ট টাইমস.কম একটি স্বতন্ত্র ইন্টারনেট মিডিয়া। এখানে বৌদ্ধদের দৈনন্দিন জীবনের বিষয়গুলোকেই তুলে আনার চেষ্টা করা হয়। পাশাপাশি যে কেহ লিখতে পারেন দি বুড্ডিস্ট টাইমস এ।

Leave a Comment

error: অনুগ্রহ করে কপি/পেস্ট মনোভাব পরিহার করি নিজে লেখার যোগ্যতা অর্জন করুন।