Apr 26, 2016
33 Views
0 0

প্রশংসায় খুশি আর নিন্দায় দুঃখী হয়ও না

লিখেছেন:

01_buddha-lotus1এখনকার দিনে সবখানে নিন্দুকের সংখ্যা এতই অধিক যে কিছু করার আগে চিন্তায় রাখতে হয় নিন্দুকেরা কি বলবে।এবং এও দেখা যায় নিন্দুকের ভয়ে অনেকে সমাজ, সদ্ধর্মের অনেক কল্যাণকর কাজ থেকে নিজেকে দূরে রাখেন।

এই নিন্দুকের দল বর্তমান অধিক হলেও পৃথিবীর ইতিহাসে এরা কিন্তু কখনও অনুপস্থিত ছিলো না। যুগে যুগে নিন্দুকেরা কাউকে তাদের নিন্দা খড়গ থেকে রেহাইও দেয় নি। পৃথিবীর বুকে যত মহাপুরুষ জন্মেছে বুদ্ধ, হযরত মুহম্মদ,যীশু, শ্রীকৃষ্ণ তাঁরাও না।

অপর দিকে যারা মহাপুরুষ ছিলনা বা পরিবার,সমাজ-সদ্ধর্ম বা রাষ্ট্রের জন্যও যাদের কোন অবদান নেই তাদেরও নিন্দুকেরা ছাড়েনি।

নিন্দুকের এই আজব প্রতিভার স্বাক্ষর তিব্বতের একটা গল্প জেনে রাখলে বেশ পরিস্কার ধারণ পাওয়া যেতে পারে।

গল্পটা হচ্ছে এমন, একদিন এক লোক তার ছেলের সঙ্গে নিজেদের গ্রাম থেকে একটি ঘোড়া নিয়ে অন্য গ্রামে যাচ্ছিল। পিতা-পুত্র দুজনেই হেঁটে যাচ্ছিল। রাস্তায় অন্য লোকদের সঙ্গে দেখা হল। তারা পিতা পুত্রকে ব্যঙ্গ করতে লাগল। দেখো, ঘোড়া খালি। ঘোড়ার পিঠে না উঠেই হেঁটে চলছে। পিতা-পুত্র এদুজন কি মূর্খ? একথা শুনে পিতা পুত্রকে বলল, তুমি ঘোড়ায় চড়ো। একটু পরে অন্য একটি দলের সঙ্গে দেখা হল। সেখানেও এই পিতা-পুত্রের আবার নিন্দা করতে লাগলো। বললো, ছেলেটা কেমন অসভ্য। নিজে ঘোড়ায় চলেছে, আর বাবা হেঁটে যাচ্ছে। এই শুনে বাবা ঘোড়ায় চড়ল, ছেলে হেঁটে যেতে লাগল। তার পর তৃতীয় আর  এক দলের সাথে দেখা হল। এবার পিতার নিন্দা করতে লাগল। দেখো কী রকম স্বার্থপর বাবা, নিজে ঘোড়ায় চলছে আর ছেলে হেটে যাচ্ছে। এই শুনে দুজনেই ঘোড়ায় চেপে বসল। পরে যখন চতুর্থ আর এক দলের সাথে দেখা হল তখন সেই লোকেরা হাসতে লাগল আর নিন্দা করতে লাগল, ‘দেখো এই পিতা-পুত্র কী নির্দয়, দুজনেই ঘোড়ায় চেপেছে, ঘোড়ার প্রতি একটুও দয়া-ভালবাসা নেই।

এভাবে ঘোড়া খালি থাকলেও লোকের নিন্দা, পুত্র চড়লেও নিন্দা, পিতা চড়লেও নিন্দা, উভয়ে চড়লেও নিন্দা শুনতে হল।

সার কথা হল নিন্দা করা নিন্দুকের স্বভাব।

তাই বলে এই পৃথিবীতে যে প্রশংসাকারী নেই এই ধারণা করা যাবে না। এই পৃথিবীর বুকে এখনও এমন অনেক লোক আছে যারা অন্যের প্রশংসা করে ক্লান্ত হয় না। তাই নিন্দা করলে দুঃখী আর প্রশংসায় সুখী হওয়ার দরকার নেই। যে কাজ আমরা ভাল মনে করি পূর্ণ সততার সঙ্গে তা করা উচিত যিনি বুদ্ধিমান এবং যিনি এই বিষয়টি বোঝেন তিনি কখনও প্রশংসায় খুশি তার নিন্দায় দুঃখী হন না।

এখানেই আমরা তথাগত বুদ্ধে যথার্থ শিক্ষা অনুসরণ-অনুকরণ, প্রতিপালন করতে পারি। যে শিক্ষা তথাগত বুদ্ধ এটি গাথার মাধ্যমে আমাদের দিয়েছেন –

বুদ্ধ বলেন, – সেলো যথা একঘনো বাতেন ত সমীরতি। এবং নিন্দাপসংসানু ন সমিঞজন্তি পণ্ডিতা।।

অর্থাৎ যেভাবে পর্বত বাতাশে দোলে না সেই ভাবে বুদ্ধিমান ব্যক্তি নিন্দা বা প্রসংশায় বিচলিত হয় না।

মনে রাখুন, এই পৃথিবীতে এমন একজন ব্যক্তিও নেই যাকে সবাই চায়, সবাই ভালবাসে। অন্য দিকে এমন একজন ব্যক্তিও নেই যাকে কেউ না কেউ চায়নি তাকে কেউ না কেউ ভালবাসে।

Facebook Comments

বৌদ্ধদের আরো তথ্য ও সংবাদ পেতে হলে আমাদের ফেসবুক ফ্যান পেইজে লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন।: www.facebook.com/buddhisttimes

দি বুড্ডিস্ট টাইমস.কম একটি স্বতন্ত্র ইন্টারনেট মিডিয়া। এখানে বৌদ্ধদের দৈনন্দিন জীবনের বিষয়গুলোকেই তুলে আনার চেষ্টা করা হয়। পাশাপাশি যে কেহ লিখতে পারেন দি বুড্ডিস্ট টাইমস এ। দি বুড্ডিস্ট টাইমস এর সাথে লেখ-লেখিতে যুক্ত হতে চাইলে ব্যবহার বিধি ও নীতিমালা পড়ুন অথবা নিবন্ধন করুন
এখানে।
Article Categories:
প্রবন্ধ
এক্সিকিউটিভ এডিটর । দি বুড্ডিস্ট টাইমস ডটকম
http://www.thebuddhisttimes.com

দি বুড্ডিস্ট টাইমস.কম একটি স্বতন্ত্র ইন্টারনেট মিডিয়া। এখানে বৌদ্ধদের দৈনন্দিন জীবনের বিষয়গুলোকেই তুলে আনার চেষ্টা করা হয়। পাশাপাশি যে কেহ লিখতে পারেন দি বুড্ডিস্ট টাইমস এ।

Leave a Comment

error: অনুগ্রহ করে কপি/পেস্ট মনোভাব পরিহার করি নিজে লেখার যোগ্যতা অর্জন করুন।