বিশ্বের বৃহত্তম বৌদ্ধ বিহার “বড়বুদুর”

Smiley face

বরোবুদুর বা বরবুদুর হল ইন্দোনেশিয়ার  মধ্য জাভার মাগেলাঙে অবস্থিত। একটি ৯ম শতাব্দীর মহাযান বৌদ্ধ মন্দির। এই স্মারকস্থলে নয়টি সারিবদ্ধ মঞ্চ রয়েছে। এর মধ্যে ছয়টি বর্গাকার ও তিনটি গোলাকার। এগুলির উপরে একটি কেন্দ্রীয় গম্বুজ রয়েছে। বরোবুদুর বিহারে ২,৬৭২টি খোদাইচিত্রের প্যানেল ও ৫০৪টি বুদ্ধমূর্তি রয়েছে। কেন্দ্রীয় গম্বুজটির চারদিকে ৭২টি বুদ্ধমূর্তি রয়েছে। প্রত্যেকটি মূর্তি একটি স্তুপের গায়ে ছিদ্রাকার গর্তে উপবিষ্ট অবস্থায় স্থাপিত।বরোবুদুর বিশ্বের বৃহত্তম বৌদ্ধ বিহার, তথা বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বৌদ্ধ স্মারক।

mondir

শৈলেন্দ্র রাজবংশের শাসনকালে খ্রিস্টীয় ৯ম শতাব্দীতে বরোবুদুর নির্মিত হয়। বিহারটি জাভা বৌদ্ধ স্থাপত্যশৈলী অনুসারে নির্মিত। এর মধ্যে ইন্দোনেশিয়ার পূর্বপুরুষ পূজার আদিবাসী সংস্কৃতি ও নির্বাণ লাভের বৌদ্ধ ধারণার একটি মিশ্রণ লক্ষিত হয়। এই বিহারে গুপ্ত শিল্পকলারও একটি প্রভাব লক্ষিত হয়। এটি এই অঞ্চলে ভারতীয় সংস্কৃতির প্রভাবের প্রতিফলন। তবে এই বিহারে যথেষ্ট পরিমাণে স্থানীয় দৃশ্যাবলি ও উপাদান সংযোজিত হয়েছে। তার ফলে বরোবুদুর স্বতন্ত্রভাবে ইন্দোনেশীয় স্থাপত্যশৈলীর নিদর্শনে পরিণত হয়েছে। বরোবুদুরের স্মারকস্থলে গৌতম বুদ্ধের একটি পূজাবেদী ও একটি বৌদ্ধ তীর্থস্থান রয়েছে। তীর্থযাত্রার পথটি শুরু হয়েছে স্মারকস্থলের পাদদেশ থেকে। এরপর পথটি তিনটি ধাপে সমগ্র স্মারকস্থলটিকে ঘিরে ঘিরে শীর্ষদেশ পর্যন্ত পৌঁছেছে। এই তিনটি ধাপ বৌদ্ধ বিশ্বতত্ত্বের তিনটি ‘ধাতু’ বা জগতের প্রতীক। জগত তিনটি হল: কামধাতু (কামনার জগত), রূপধাতু (সাকারের জগত) ও অরূপধাতু (নিরাকারের জগত)। এই স্মারকস্থলে তীর্থযাত্রীরা প্রসারিত সিঁড়ি ও অলিন্দের মাধ্যমে শীর্ষদেশে পৌঁছান। অলিন্দগুলির দেওয়ালে ও সূক্ষ্মাগ্র ক্ষুদ্র স্তম্ভশ্রেণির গায়ে ১,৪৬০টি খোদাইচিত্রের প্যানেলে বিভিন্ন কাহিনি প্রদর্শিত হয়েছে। বরোবুদুর বিশ্বের বৃহত্তম ও সামগ্রিক বৌদ্ধ খোদাইচিত্রের সমাহার।

প্রাপ্ত প্রমাণ থেকে জানা যায়, বরোবুদুর নির্মিত হয়েছিল খ্রিস্টীয় ৯ম শতাব্দীতে। খ্রিস্টীয় ১৪শ শতাব্দীতে জাভা জাতি ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত হলে জাভার হিন্দু রাজ্যগুলির পতন ঘটে। এই সময় বরোবুদুর পরিত্যক্ত হয়। ১৮১৪ সালে জাভার তৎকালীন ব্রিটিশ শাসক স্যার টমাস স্ট্যামফোর্ড র‌্যাফেলস স্থানীয় ইন্দোনেশীয়দের কাছ থেকে এই বিহারের অবস্থানের কথা জানতে পারলে সারা বিশ্বে এই বিহারের অস্তিত্বের কথা ছড়িয়ে পড়ে। তারপর থেকে বেশ কয়েকবার সংস্কারের মাধ্যমে বরোবুদুর সংরক্ষিত হয়েছে। বৃহত্তম সংস্কার প্রকল্পটি চালানো হয় ১৯৭৫ ও ১৯৮২ সালের মধ্যবর্তী সময়ে। এই সংস্কার প্রকল্পটি পরিচালনা করেছিল ইন্দোনেশিয়া সরকার ও ইউনেস্কো। এরপর বরোবুদুর বিহার চত্বর ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের তালিকাভুক্ত হয়।

বরোবুদুর এখনও একটি তীর্থস্থল হিসেবে পরিগণিত হয়। ইন্দোনেশিয়ার বৌদ্ধরা বছরে একবার এখানে বেশাখ উৎসব উদযাপন করেন। বরোবুদুর ইন্দোনেশিয়ার একক সর্বাধিক পরিদর্শিত পর্যটন কেন্দ্র।

Facebook Comments

বৌদ্ধদের আরো তথ্য ও সংবাদ পেতে হলে আমাদের ফেসবুক ফ্যান পেইজে লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন।: www.facebook.com/buddhisttimes

দি বুড্ডিস্ট টাইমস.কম একটি স্বতন্ত্র ইন্টারনেট মিডিয়া। এখানে বৌদ্ধদের দৈনন্দিন জীবনের বিষয়গুলোকেই তুলে আনার চেষ্টা করা হয়। পাশাপাশি যে কেহ লিখতে পারেন দি বুড্ডিস্ট টাইমস এ। দি বুড্ডিস্ট টাইমস এর সাথে লেখ-লেখিতে যুক্ত হতে চাইলে ব্যবহার বিধি ও নীতিমালা পড়ুন অথবা নিবন্ধন করুন
এখানে।

Recommended For You

Leave a Reply

error: অনুগ্রহ করে কপি/পেস্ট মনোভাব পরিহার করি নিজে লেখার যোগ্যতা অর্জন করুন।