Sep 16, 2017
69 Views
0 0

মিডিয়া সন্ত্রাসের শিকার হচ্ছে দেশের বৌদ্ধরা

লিখেছেন:

দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার একটি শিরোনাম।

গত ২৫ আগস্ট রোহিঙ্গা জঙ্গি গ্রুপ আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি(আরসা)মিয়ানমারের ৩০টি পুলিশ ও সেনাচৌকিতে হামলার প্রেক্ষিতে মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যে নতুন করে সহিংসতা শুরুর পর সরব ভূমিকা পালন করেছে বাংলাদেশের প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক, স্যাটেলাইট, অনলাইন ভিত্তিক গণমাধ্যমগুলো।

বাংলাদেশের গণমাধ্যমগুলোর সরব ভূমিকার কল্যাণে মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যের সহিংসতার শিকার লাখো রোহিঙ্গাদের দুর্দশার ও কষ্টের কথা জোরালো ভাবে ফুটে উঠছে বিশ্বের দরবারে।বাংলাদেশের মিডিয়াগুলোর জোরালো ভূমিকার জন্যে রোহিঙ্গা নির্যাতন বন্ধে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে মিয়ানমারের উপর। আর মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা লাখো রোহিঙ্গাদের আশ্রয়, খাদ্য ও সেবার দৃষ্টান্ত দেখিয়ে ইতমধ্যে বাংলাদেশ ভূয়সী প্রশংসা অর্জন করছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা থেকে।

গণমাধ্যমের এধরণের সরব ভূমিকার মাঝে অপরদিকে তথ্য সন্ত্রাসের শিকার হচ্ছে বাংলাদেশের বৌদ্ধরা। গণমাধ্যম গুলোতে হেডলাইনে, সংবাদে, নিবন্ধে, প্রবন্ধে মিয়ানমারের অভ্যন্তরীন সহিংসতাকে ‘বৌদ্ধ-মুসলিম’ সংঘাট হিসাবে তুলে ধারায় দিন দিন বৌদ্ধদের  উপর দেশের সাধারণ মুসলিমদের ক্ষোভের সঞ্চার বাড়াচ্ছে।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ মাধ্যমগুলো মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যের সংঘাটকে দেখছে ‘মিয়ানমার/সু চির সরকার বা সেনাবাহিনীর অভিযান” হিসাবে। কিন্তু বাংলাদেশের শীর্ষ সংবাদ মাধ্যম থেকে ছোট-বড় প্রায় সব গণামাধ্যমে “মিয়ানমারের বৌদ্ধ/বৌদ্ধ” শব্দ ব্যবহারের কারণে গণমাধ্যম গুলো দেশের বৌদ্ধদের নিরাপত্তা হীনতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

বাংলাদেশের মিডিয়াগুলোর এমন দায়িত্বহীন ভূমিকায় দেশের বৌদ্ধরা উদ্বেগ প্রকাশ করে বৌদ্ধ বিশিষ্ট জনেরা আক্ষেপ প্রকাশ করে বলছে, বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশী আর্থিক অনুদান প্রদান করেন জাপান সরকার। সেই দেশ থেকে এদেশে যখন অনুদান পাঠানো হয় তখন একটিবারও বলা হয় না জাপানী বৌদ্ধরা অনুদান পাঠাচ্ছে। হলি আর্টিজান এ হামলার পর অনেক দেশ যখন এই দেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল তখন পাশে থেকেছে জাপান। তারা মেট্রো রেলের মতো বড় বড়  কাজ ফেলে চলে যায় নি। বরং পাশে দাড়িয়েছিল। তখন গণমাধ্যমগুলোতে সংবাদ আসেনি বৌদ্ধরা আমাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় নি। বৌদ্ধরা আমাদের পাশে দাড়িয়েছে।

এখন মিয়ানমার সরকার বা সেনাবাহিনীর রোহিঙ্গাদের উপর নির্যাতন নিয়ে পত্রিকা, টেলিভিশন, টক শো সব জায়গাতেই বলা হচ্ছে মায়ানমারের বৌদ্ধরা হামলা করছে।

বৌদ্ধরা দাবী করছে, গণমাধ্যমের সংবাদ পরিবেশনের ধরণ দেখেই বাংলাদেশী সাধারণ মুসলিমরা বৌদ্ধদের উপর ক্রোধান্বিত হয়ে উঠছে প্রতিনিয়ত।

এনিয়ে এখন পর্যন্ত বেশ কিছু জায়গায় বৌদ্ধ ধর্মগুরু ও বৌদ্ধদের উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসবের দায় কি সাধারণ মুসলিমদের নাকি মিডিয়ার? প্রশ্ন দেশের বৌদ্ধদের।

Facebook Comments

বৌদ্ধদের আরো তথ্য ও সংবাদ পেতে হলে আমাদের ফেসবুক ফ্যান পেইজে লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন।: www.facebook.com/buddhisttimes

দি বুড্ডিস্ট টাইমস.কম একটি স্বতন্ত্র ইন্টারনেট মিডিয়া। এখানে বৌদ্ধদের দৈনন্দিন জীবনের বিষয়গুলোকেই তুলে আনার চেষ্টা করা হয়। পাশাপাশি যে কেহ লিখতে পারেন দি বুড্ডিস্ট টাইমস এ। দি বুড্ডিস্ট টাইমস এর সাথে লেখ-লেখিতে যুক্ত হতে চাইলে ব্যবহার বিধি ও নীতিমালা পড়ুন অথবা নিবন্ধন করুন
এখানে।
এক্সিকিউটিভ এডিটর । দি বুড্ডিস্ট টাইমস ডটকম
http://www.thebuddhisttimes.com

দি বুড্ডিস্ট টাইমস.কম একটি স্বতন্ত্র ইন্টারনেট মিডিয়া। এখানে বৌদ্ধদের দৈনন্দিন জীবনের বিষয়গুলোকেই তুলে আনার চেষ্টা করা হয়। পাশাপাশি যে কেহ লিখতে পারেন দি বুড্ডিস্ট টাইমস এ।

Leave a Comment

error: অনুগ্রহ করে কপি/পেস্ট মনোভাব পরিহার করি নিজে লেখার যোগ্যতা অর্জন করুন।