Nov 16, 2016
38 Views
0 0

যিনি পঁচিশ বছর শয়ন করেননি সেই অনিরুদ্ধ স্থবিরের পূর্বজন্মের বিবরণী জানতে চাইলে পড়ুন (১ম পর্ব)

লিখেছেন:

যিনি পঁচিশ বছর শয়ন করেননি সেই অনিরুদ্ধ স্থবিরের পূর্বজন্মের বিবরণী জানতে চাইলে পড়ুন (১ম পর্ব)

ইলা মুৎসুদ্দী

43

বর্তমান ভদ্রকল্প হইতে এক লক্ষ কল্প পূর্বে ধরনীমন্ডলে ভগবান পদুমুত্তর সম্যক সম্বুদ্ধ উৎপন্ন হইয়াছিলেন। তখন হংসবতী নগরে অপ্রকট নামক একজন ধনবান শ্রেষ্ঠী ছিলেন।

একদিন অপরাহ্ন সময়ে পুষ্প, সুগন্ধি দ্রব্যাদি ও প্রদীপ সামগ্রী গ্রহণ করিয়া ধর্ম শ্রবণ কারীদের সহিত বিহারে উপস্থিত হইয়া রাজা, অমাত্য ও শ্রেষ্ঠী পরিষদের প্রান্তে উপবেশন করিয়া বুদ্ধ কর্তৃক দেশিত ধর্ম শ্রবণ করিলেন।

বুদ্ধ ক্রমিক ধর্মদেশনা দ্বারা ধর্মদেশনা করিয়া ধর্মদেশনা অবসানে একজন ভিক্ষুকে দিব্যচক্ষু জ্ঞানে* সর্বাগ্রগণ্য উল্লেখ করিয়া সেই ভিক্ষুকে অগ্রস্থান প্রদান করিলেন। এই বিষয় দর্শন করিয়া অপ্রকট শ্রেষ্ঠীরও সেইপদ লাভের জন্য প্রার্থনা করিতে প্রবল ইচ্ছা উৎপন্ন হইল। এবং রাজা, অমাত্য ও শ্রেষ্ঠীগণ চলিয়া যাইবার অপেক্ষা রহিলেন।

সকলে চলিয়া গেলে অপ্রকট শ্রেষ্ঠী বুদ্ধের পাদদেদ্মে বন্দনা ও পূজা সামগ্রীসহ পূজা করিয়া বিনীত কন্ঠে আবেদন করিরেন, “প্রভো তথাগত, আগামীকল্য আপনার শ্রাবকসংঘসহ তদীয় গৃহে আগমন পূর্বক দিবা ভোজনের নিমন্ত্রণ করিতেছি, আপনি অনুগ্রহ পূর্বক আমার নিমন্ত্রণ গ্রহণ করুন।” তথাগত বুদ্ধ নীরবে শ্রেষ্ঠীর নিমন্ত্রণ অনুমোদন করিলেন।

পরদিন শ্রেষ্ঠী বুদ্ধ প্রমুখ ভিক্ষু সংঘকে আপন গৃহে উত্তম খাদ্য ভোজ্যাদি দ্বারা ভোজন করাইলেন। এইভাবে সপ্তদিন অবধি উত্তম খাদ্য ভোজ্য দ্বারা বুদ্ধ প্রমুখ ভিক্ষুসংঘকে সেবা পূজা করিয়া সপ্তাহ পরে ত্রিচীবর প্রত্যয় দ্বারা বুদ্ধ প্রমুখ ভিক্ষু সংঘকে বিপুলভাবে দান করিলেন।

এইভাবে দান করিয়া অপ্রকট শ্রেষ্ঠী বুদ্ধের পাদবন্দনা করিয়া নিবেদন করিলেন “প্রভো, আমি বুদ্ধপ্রমুখ ভিক্ষু সংঘকে সপ্তাহব্যাপী পূজা করিয়া যে পুন্যার্জন করিয়াছি, তাহা দ্বারা দেবরাজ শত্রু, ব্রহ্ম ও চক্রবর্তী রাজ স¤পত্তি কামনা করি না, আপনি সপ্তাহপূর্বে একজন ভিক্ষুকে যে দিব্যচক্ষু অভিজ্ঞানে অগ্রস্থানে প্রতিষ্ঠিত করিয়াছেন, তাঁহার ন্যায় আমিও ভবিষ্যতে দিব্যচক্ষু অভিজ্ঞানে শ্রেষ্ঠস্থান লাভের প্রার্থনা করিতেছি।”

তথাগত বুদ্ধ অনাগত অভিজ্ঞানের দ্বারা ভবিষ্যত দর্শন করিয়া অপ্রকট শ্রেষ্ঠীর এতদস¤পর্কিত পুণ্যের পূর্ণতা দর্শন করিয়া বলিলেন, “হে অপ্রকট শ্রেষ্ঠী, এই হইতে লক্ষ কল্প পরে ভদ্রকল্পে তিনজন বুদ্ধের পরে চতুর্থ বুদ্ধ গৌতম নামক সম্যক সম্বুদ্ধ উৎপন্ন হইবেন। তখন আপনি অনুরুদ্ধ নামে দিব্য চক্ষু অভিজ্ঞানে বিভূষিত হইয়া সর্বাগ্রেগণ্য স্থানে প্রতিষ্ঠিত হইবেন।”

অপ্রকট শ্রেষ্ঠী তথাগত বুদ্ধের এই ভবিষ্যদ্বাণীতে আশ্বস্ত ও পরমানন্দে আনন্দিত হইলেন। তখন প্রশ্ন করিলেন, “প্রভো তথাগত, আপনার কাছে আমার প্রশ্ন হইল- কি দান বা পুণ্য ফলের দ্বারা দিব্য চক্ষু জ্ঞান লাভে সক্ষম হওয়া যায়?”

তদুত্তরে ভগবান বলিলেন, “প্রদীপ দানের দ্বারাই প্রধানত এই জ্ঞান লাভে সক্ষম হওয়া যায়।” অপ্রকট শ্রেষ্ঠী অতিশয় আনন্দিত হইলেন। ভগবান বুদ্ধ শ্রেষ্ঠীর পুণ্যানুমোদন করিয়া শ্রাবকসংঘসহ শ্রেষ্ঠী ভবন ত্যাগ করিলেন।

তখন হইতে অপ্রকট শ্রেষ্ঠী নিত্য পঞ্চশীলে প্রতিষ্ঠিত হইয়া প্রত্যহ প্রদীপ পূজা করিতে লাগিলেন। পদুমত্তর বুদ্ধ পরিনির্বাণের পর সপ্তযোজনব্যাপী সুবর্ণ বিমন্ডিত ঋতুচৈত্য  নির্মিত হইলে অপ্রকট শ্রেষ্ঠী সেই বুদ্ধচৈত্য সহস্র প্রদীপের দ্বারা পূজা করেন। এই পুণ্যের প্রভাবে অপ্রকট শ্রেষ্ঠী জন্মান্তরে সহস্রবার ত্রয়োত্রিংশ দেবলোকে দেবরাজ ইন্দ্র হইয়া উৎপন্ন হন। সেই দেবরাজের বিমান অগ্নিবর্ণের ন্যায় আলোকে উদ্ভাসিত হইত।

দেবলোক হইতে মনুষ্যলোকে উৎপন্ন হইলে একশত বার চক্রবর্তী রাজা এবং অগণিতবার একছত্র অধিপতি রাজা হইয়া উৎপন্ন হইয়াছিলেন। সুমেধ বুদ্ধ উৎপন্ন সময়ে এক ধনীরূপে জন্মগ্রহণ করিয়া অপ্রকট শ্রেষ্ঠী দুই সহস্র প্রদীপ দ্বারা বুদ্ধকে পূজা করিয়া ত্রিশবার দেবরাজ শত্রু এবং আটাশবার চক্রবর্তী রাজা হইয়া জন্মগ্রহণ করিয়াছিলেন।

এইভাবে বহু কল্প দেবলোক ও মানবলোক ভ্রমণ করিতে করিতে বর্তমান ভদ্রকল্পে কাশ্যপ বুদ্ধের সময়ে বারাণসী রাজ্যে চল্লিশ কোটি ধন স¤পন্ন শ্রেষ্ঠীর কূলে জন্ম গ্রহণ করিয়া ছিলেন। বৃহৎ সুবর্ণপাত্রে ঘৃতপূর্ণ করিয়া পরিনির্বাণ প্রাপ্ত বুদ্ধের ধাতুচৈত্যে সহস্র প্রদীপ দ্বারা পূজা করিয়া ছিলেন। এইভাবে পুণ্য সঞ্চয় করিয়া যথা আয়ুষ্কাল অবস্থান করিয়া মৃত্যুর পর দেবলোকে উৎপন্ন হইলেন। দেবকুল হইতে মানবকূলে জন্মগ্রহণ করিয়া একটি অকুশল কর্মের প্রভাবে গৌতম বুদ্ধ উৎপন্ন হইবার পূর্বে বারাণসীতে সুমন নামক শ্রেষ্ঠীর আশ্রয় লাভী এক দরিদ্র কূলে জন্মগ্রহণ করেন। অন্নের ভান্ড বহনকারী ব্যক্তির গৃহে জন্মগ্রহণ করায় তাহার নাম অন্নভার রাখা হয়। সুমন শ্রেষ্ঠীর ব্যক্তি যাচক সন্ন্যাসী ও ব্রাহ্মণ দিগকে প্রত্যহ দান করিতেন।  

সূত্র – বুদ্ধের সমকালীন ভিক্ষুসংঘ, মুদিতারত্ন ভিক্ষু

Facebook Comments

বৌদ্ধদের আরো তথ্য ও সংবাদ পেতে হলে আমাদের ফেসবুক ফ্যান পেইজে লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন।: www.facebook.com/buddhisttimes

দি বুড্ডিস্ট টাইমস.কম একটি স্বতন্ত্র ইন্টারনেট মিডিয়া। এখানে বৌদ্ধদের দৈনন্দিন জীবনের বিষয়গুলোকেই তুলে আনার চেষ্টা করা হয়। পাশাপাশি যে কেহ লিখতে পারেন দি বুড্ডিস্ট টাইমস এ। দি বুড্ডিস্ট টাইমস এর সাথে লেখ-লেখিতে যুক্ত হতে চাইলে ব্যবহার বিধি ও নীতিমালা পড়ুন অথবা নিবন্ধন করুন
এখানে।
Article Categories:
বৌদ্ধধর্ম
http://www.thebuddhisttimes.com

ইলা মুৎসুদ্দি। সুপরিচিত ও জনপ্রিয় কলাম লেখক ও প্রাবন্ধিক। ই-মেইল:

Leave a Comment

error: অনুগ্রহ করে কপি/পেস্ট মনোভাব পরিহার করি নিজে লেখার যোগ্যতা অর্জন করুন।