May 20, 2016
24 Views
0 0

শঙ্কায় বৌদ্ধ ভিক্ষুরা

লিখেছেন:

উজ্জ্বল তঞ্চঙ্গ্যা, বান্দরবানঃ আচেন্দিয়া ভিক্ষু। বয়স ষাটের কাছাকাছি। বাইশারী ইউনিয়নের উপর চাকপাড়া বৌদ্ধ বিহারের প্রধান বা অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। মুঠোফোনে কল দিয়ে কথা হয় তার সঙ্গে। কেমন আছেন? ভালো নেই। কেন ভালো নেই? শঙ্কায় আছি। কেন শঙ্কায় আছেন? কখন কার ওপর আক্রমণ করা হয় এবং আদৌ দোষীরা শাস্তি পাবে কিনা এই আশঙ্কায়। সম্প্রতি বাইশারী ইউনিয়নের চাকপাড়ায় বৌদ্ধ ভিক্ষু মংশৈউ চাককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় তিনি শঙ্কিত। ঘটনাটি ঘটেছে তার বিহার থেকে প্রায় ৩০০ গজ দূরে। তিনি সার্বক্ষণিক সঙ্গে করে লোকজন কিংবা শিষ্য রাখেন। সন্ধ্যা নামার আগেই বিহারের ভেতরে দরজা-জানালা বন্ধ করে থাকেন।

বান্দরবানে বৌদ্ধ ভিক্ষুকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা এটাই প্রথম। এর আগে বৌদ্ধ ভিক্ষুর ওপর এমন আঘাত আসেনি। বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের কাছে এখন আতঙ্কের নাম নাইক্ষ্যংছড়ি ও রামু। কখন, কোন সময় বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ওপর আঘাত আসে এ শঙ্কায়। সম্প্রতি নাইক্ষ্যংছড়ি বাইশারী চাকপাড়ায় বৌদ্ধ ভিক্ষুকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় সন্দেহভাজন তিনজনকে আটক করে পুলিশ। এর মধ্যে দু’জন মিয়ানমারের নাগরিক রোহিঙ্গা। বৌদ্ধ ভিক্ষু হত্যার আগে কক্সবাজার টেকনাফে আনসার ক্যাম্পে হামলা চালিয়ে ক্যাম্প কমান্ডারকে গুলি করে হত্যা ও অস্ত্র লুটের ঘটনায় রোহিঙ্গারা জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ।

রামু বৌদ্ধ পল্লীতে অগি্ন সংযোগ, মূর্তি ভাংচুর ঘটনায় মিয়ানমারের নাগরিক রোহিঙ্গারা জড়িত ছিল। প্রতিটি ঘটনার সঙ্গে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিকরা জড়িত থাকার অহরহ প্রমাণ পুলিশের কাছে রয়েছে বলে মনে করেন এখানকার স্থানীয়রা।

বাইশারী ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুল হক বলেন, অতীতের ইতিহাস দেখলে যত বড় বড় ঘটনা হয়েছে তার পেছনে রোহিঙ্গারা কাজ করেছে। রোহিঙ্গা হয় সরাসরি কাজ করেছে, না হয় পেছন থেকে ইন্ধনদাতা হিসেবে কাজ করেছে। এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে তাদের ভূমিকা থাকবে না বলা যায় না।

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা সদরের মধ্যম চাকপাড়া বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ক্যসাইহ্লা, উপর চাকপাড়া বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ, হেডম্যান পাড়ার বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ উক্যাইমেধা- সবাই মনে করেন, তাদের জীবন এখন আর নিরাপদ নয়। পার্বত্য বৌদ্ধ ভিক্ষু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও বালাঘাটা কেন্দ্রীয় বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ তেজপ্রিয় ভিক্ষু বলেন, আমাদের পার্বত্য বৌদ্ধ ভিক্ষু পরিষদের অধীনে প্রায় ৩০০টি বৌদ্ধ বিহার আছে। এই ভিক্ষুরা এখন আতঙ্কে আছে। তাদের সঙ্গে সব সময় যোগাযোগ হয়। তারা আমাকে তাদের ভয়ের কথা জানায়। পার্বত্য ভিক্ষু কল্যাণ সমিতির সভাপতি ও জেলা শহরের উজানীপাড়া বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ উ চাইন্দা ওয়ারা বলেন, হত্যাকারীরা আত্মীয়-স্বজন কিংবা যে কেউ হোক তাদের আটক করে উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া হোক।

এদিকে ঘটনার পর দিন শনিবার নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় নিহতের ছেলে বাদী হয়ে মামলা করেন। ওইদিন রাতে মিয়ানমারের দুই রোহিঙ্গা নাগরিক জিয়াউদ্দিন, রহিম ও চাক সম্প্রদায়ের হ্লামং চাককে আটক করে পুলিশ। আদালতে নিয়ে আসা হলে তাদের তিনজনকে পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। এই তিনজনকে আটক ছাড়া মামলার কোনো অগ্রগতি নেই।

জেলা পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমানকে বৌদ্ধ ভিক্ষুরা আতঙ্কে থাকার বিষয়টি জানানো হলে তিনি বলেন, আতঙ্ক থাকতেই পারে। এমন হত্যাকাণ্ডে যে কারোই আতঙ্ক থাকার কথা। ওই এলাকা (বাইশারী চাকপাড়া) আরও দুর্গম আর জঙ্গল। এমনিতে আতঙ্ক বা ভয় কাজ করা স্বাভাবিক। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে, ভয় দূর করতে পুলিশ-গোয়েন্দা সার্বক্ষণিক পাহারা দিচ্ছে। -সমকাল।

Facebook Comments

বৌদ্ধদের আরো তথ্য ও সংবাদ পেতে হলে আমাদের ফেসবুক ফ্যান পেইজে লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন।: www.facebook.com/buddhisttimes

দি বুড্ডিস্ট টাইমস.কম একটি স্বতন্ত্র ইন্টারনেট মিডিয়া। এখানে বৌদ্ধদের দৈনন্দিন জীবনের বিষয়গুলোকেই তুলে আনার চেষ্টা করা হয়। পাশাপাশি যে কেহ লিখতে পারেন দি বুড্ডিস্ট টাইমস এ। দি বুড্ডিস্ট টাইমস এর সাথে লেখ-লেখিতে যুক্ত হতে চাইলে ব্যবহার বিধি ও নীতিমালা পড়ুন অথবা নিবন্ধন করুন
এখানে।
এক্সিকিউটিভ এডিটর । দি বুড্ডিস্ট টাইমস ডটকম
http://www.thebuddhisttimes.com

দি বুড্ডিস্ট টাইমস.কম একটি স্বতন্ত্র ইন্টারনেট মিডিয়া। এখানে বৌদ্ধদের দৈনন্দিন জীবনের বিষয়গুলোকেই তুলে আনার চেষ্টা করা হয়। পাশাপাশি যে কেহ লিখতে পারেন দি বুড্ডিস্ট টাইমস এ।

Leave a Comment

error: অনুগ্রহ করে কপি/পেস্ট মনোভাব পরিহার করি নিজে লেখার যোগ্যতা অর্জন করুন।