সংঘনায়ক আনন্দমিত্র মহাস্থবির

Smiley face

anandamitra-mahatheroজন্ম ১লা ফেব্রুয়ারী ১৯০৮ ইংরেজী। পিতাঃ চরপ্রু বড়ুয়া, মাতাঃ দয়মন্তী বড়ুয়া। জন্মস্থানঃ চট্টগ্রমা রাজুজান থানাধীন পশ্চিম আধার মানিক গ্রাম। গৃহী নামঃ যতীন্দ্র বড়ুয়া। ৬ বছর বয়সে নিজ গ্রামের স্কুলে শিক্ষা জীবন শুরু। প্রাথমিক স্কুল জীবন থেকে তাঁর মেধার পরিচয় পাওয়া যায়। চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র অবস্থায় সে তখন ষষ্ঠ শ্রেণীর পাটিগণিতের অংকগুলো কষ্‌তে পারত।প্রাথমিক শিক্ষাজীবন শেষ করে তাকে ভর্তি করে দেয় হয়। বিনাজুরী এম, ই স্কুলে ভর্তি। ছোট বেলা থেকে চারিত্রিক গুনাবলীর প্রকাশ পায়। প্রতিদিন সকাল-বিকাল পঞ্চশীল গ্রহণ, বুদ্ধ বন্দনা ও ফুল বাতি দিয়ে বুদ্ধপূজা করা ছিল তার প্রাত্যহিক কাজ। ছোট বেলায় তা একদিনের ঘটনা থেকে জানা যায় সে কতটা শীলবান ছিলেন, এক সন্ধ্যার পর বাড়ী থেকে বিহারে আসতেছে। পুকুরে হাত মুখ ধুবে এ চিন্তা করে ঘাটে নামলে এমনি সময় একটি বড় কাতলা মাছ তার সামনে লাফিয়ে পুকুর পাড়ে উঠে গেল। সে কোন চিন্তা না করেই মাছটিকে পুনরায় জলে ছেড়ে দিলেন। এতে প্রমাণিত হয় যে সে ছাত্রাবস্থাতেই  কতটুকু শীলবান ছিলেন।প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিকুলেশান পরীক্ষায় পাশ করেন ১৯২৮ ইংরেজীতে।ম্যাট্রিক পাশের পর শিক্ষাগুরু পন্ডিত ধর্মরাজ বড়ুয়ার পরামর্শে রাউজানের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দু-বছর শিক্ষকতা করেন। সেখানের যুবক ও ছাত্রদের নিয়ে একটি ক্লাব গঠন করেন। তাঁর ভিবিন্ন সৎ গুনাবলীর কারণে তিনি সেখানে সবার প্রিয় পাত্র হয়ে উঠেছিলেন। ১৯৩০ সালের মে মাসে মাতা-পিতার অনুমতি নিয়ে প্রব্রজ্যা লাভের জন্য চট্টগ্রাম শহরের নন্দনকানন বিহারের অধ্যক্ষ অগ্রমহাপন্ডিত ধর্মবংশ মহস্থবির এর কাছে এসে উপস্থিত হন। এবং শ্রদ্ধেয় অগ্রমহাপন্ডিত ধর্মবংশ মহস্থবির মহোদয়ের কাছে শ্রামণ্য ধর্মে দীক্ষিত হন। নাম হয় ‘আনন্দমিত্র শ্রমণ’।১৯৩১ সালে পুনরায় কর্ত্তালা সদ্ধর্মলংকার বিহারে শ্রামণ্য ধর্মে দীক্ষিত হন। গুরু উক্ত বিহারে অধ্যক্ষ ভদন্ত বংশদীপ মহাস্থবির। গুরু নাম পরিবর্তন না করে আগের ‘আনন্দমিত্র’ বহাল রখেন। এবং ঐ সালেই তাহার পিতা আকস্মিকভাবে মৃত্যু বরণ করেন।

তিনি ১৯৩২ সালে বার্মা গমণ করেন। আচার্য বংশদীপ মহাস্থবিরের অনুমতিক্রমে ১৯৩২ সালের ২০শে মার্চ রার্মার ডাগুম সীমায় ডাগুম ছেয়াদ বর মহাস্থবিরের উপাধায়ত্বে অনেক ভিক্ষুসংঘের উপস্থিতিতে ২৫ বছর বয়সে উপসম্পদা লাভ করেন।

এর পর তিনি ১৯৩২-৩৪ সাল পর্যন্ত গুরদেবের নির্দ্দেশে চরকানাই রত্নাঙ্কুর বিহারে বর্ষাবাস যাপন করেন। এ সময়ে তিনি পদব্রজে তীর্থ ভ্রমণ করেছিলেন।১৯৩৫ সালে কলিকাতার দর্মাংকুর বিহারের অধ্যক্ষের দায়িত্ব নিয়ে গুরুদেব সেখানে চলে গেলে গুরুদেবের নির্দ্দেশে তিনি চরকানায় ত্যাগ করে কর্ত্তলা সদ্ধর্ম্মলংকার বিহারে বর্ষাবাস যাপন করেন। ১৯৩৬ সালে তিনি পুনরায় বার্মায় চলে যান।১৯৩৬ সালের শেষের দিকে তার বৃদ্ধ মা তাঁকে দেশে ফিরে আসার অনুরোধ জানালে ১৯৩৭ সালে পুনরায় দেশে ফিরে আসেন। ১৯৩৭ সাল থেকে ১৯৪১ সাল পর্যন্ত তিনি ছতর পিটুযার পর্ণ কুঠিরে অবস্থান করেন। ১৯৪২-১৯৪৭ সাল তিনি বাগযান ফরাচিং বিহারে বর্ষাবস যাপন করেন। বেতাগী বনাশ্রমে অবস্থান করেন ১৯৪৮ সাল থেকে ১৯৫১ সাল পর্যন্ত। ১৯৫২-৫৩ এক বছর পাহাড়তলী মহামুনি যোগেন্দ্রারামে অবস্থান করেন। ১৯৫৪ সালে তিনি পুনরায় বার্মা চলে যান। ১৯৫৪ সালে বুদ্ধের জয়ন্তী উপলক্ষে মায়ানমারের রাজধানী রেঙ্গুন শহরে ৬ষ্ঠ সংগীতিতে যোগদান করেন। ১৯৫৪ সালে শ্রীলংকায় চলে যান সেখানে ১৯৫৯ সাল অবদি অবস্থান করে ১৯৬০ সালে বিনাজুরী শ্মশান বিহারে আগমণ করেন। বিনাজুরী শ্মশান বিহারে ১৯৬৩ সাল পর্যন্ত বর্যাবাস যাপন করেন। ১৯৬৩ সালের বর্ষাবাস শেষে তীর্থস্থান দর্শনের মানসে ভারতে চলে যান। সেখানে বিশিষ্ট জনদের অনুরোধে শিলং বৌদ্ধ বিহারে ১৯৬৭ সাল পর্যন্ত অবস্থান করেন। এছাড়া তিনি কলকাতার উপকন্ঠে বেড়াল নামক স্থানে ১৯৬৮, শ্যামনগর জগদ্দল বিহারে ১৯৬৯ লক্ষৌ বোধিসত্ত্ব বিহারে ১৯৭৯, ১৯৭১-৭৩ সাল বুদ্ধগয়াশ্ত থাই মন্দিরের অধ্যক্ষ হিসাবে অবস্থান করেন। ইছাপুর আনন্দধামে ১৯৭৪-৭৬ সাল বর্ষাবাস যাপন করেন।১৯৭৭ সালে জ্ঞানেশ্বর মহাস্থবির মহোদয়ের অনুরোধে বুদ্ধের পরিনির্বাণ স্থান কুশীনগরে এক বর্ষাবাস যাপন করেন। এবং পুনরায় বুদ্ধগয়াস্থ থাই মন্দিরে ১৯৭৮-৮০ সাল পর্যন্ত বর্ষাবাস যাপন করেন। ১৯৮১-৮২ সালে ভদন্ত জ্ঞানজগত মাহাস্থবিরের বিশেষ আমন্ত্রণে তিনি দত্তপুকুর জেতবন বিহারে ২ বর্ষা যাপন করেন। এ সময় তাঁকে অখিল ভারত ভিক্ষুসংঘের সঙ্ঘনায়ক হিসাবে সংঘের কার্যোপলক্ষে ভিবিন্ন ভ্রমণ করেন। ১৯৮৩ সালে ফেব্রুয়ারী মাসে তিনি বাংলাদেশ অতীশ দীপংকর সহস্রতম জন্ম জয়ন্তী উৎসব কমিটির বিষেষ আমন্ত্রণে ঢাকায় আসেন এবং ঐ অনুষ্ঠানে যোগ দান করেন। এ সময় চট্টগ্রামের ভিবিন্ন স্থান পরিভ্রমণ করেন এবং নিজ জন্ম-জনপদ পশ্চিম আধার মানিকে কয়েকদিন অবস্থান করে পুনরায় ভারতে ফিরে যান। বাংলাদেশ থেকে তিনি ইছাপুর ‘আনন্দধামে চলে যান এবং সেখানে অবস্থানকালীন বেশ কিছু বই রচনা করেন। জীবনের শেষ কটি বছর নয়াদিলীশ্ত চিত্তরঞ্জন পার্কে অবস্থান করেন।

এই বহু প্রতিভার অধিকারী বৌদ্ধ মণিষা ১৯৯৯ সালের ৪ মার্চ ইহলোক ত্যাগ করেন।

তাঁহার রচিত গ্রন্থ পাবেন http://avbbp.org/ সাইটে

Facebook Comments

বৌদ্ধদের আরো তথ্য ও সংবাদ পেতে হলে আমাদের ফেসবুক ফ্যান পেইজে লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন।: www.facebook.com/buddhisttimes

দি বুড্ডিস্ট টাইমস.কম একটি স্বতন্ত্র ইন্টারনেট মিডিয়া। এখানে বৌদ্ধদের দৈনন্দিন জীবনের বিষয়গুলোকেই তুলে আনার চেষ্টা করা হয়। পাশাপাশি যে কেহ লিখতে পারেন দি বুড্ডিস্ট টাইমস এ। দি বুড্ডিস্ট টাইমস এর সাথে লেখ-লেখিতে যুক্ত হতে চাইলে ব্যবহার বিধি ও নীতিমালা পড়ুন অথবা নিবন্ধন করুন
এখানে।

Short URL: http://thebuddhisttimes.com/?p=2013

ধম্মবিরীয় ভিক্ষু Posted by on Jun 19 2016. Filed under জীবনী. You can follow any responses to this entry through the RSS 2.0. You can leave a response or trackback to this entry

You must be logged in to post a comment Login

Smiley face

সর্বশেষ টাইমস

Recent Posts: NivvanaTV covering Buddhist and Buddhist community in World, with weekly news, views, entertainment, and programs for all age.

কাতালগঞ্জ নবপন্ডিত বিহার আধুনিকায়ন ও সংলগ্ন সড়কটি বিশুদ্ধানন্দ মহাথেরোর নামকরণ করা হবেঃ মেয়র

কাতালগঞ্জ নবপন্ডিত বিহার আধুনিকায়ন ও সংলগ্ন সড়কটি বিশুদ্ধানন্দ মহাথেরোর নামকরণ করা হবেঃ মেয়র

সংঘনায়ক শুদ্ধানন্দ মহাথেরোর গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেছেন, চকবাজার কাতালগঞ্জস্থ নবপন্ডিত বিহারের আধুনিকায়নে আমার পক্ষ থেকে সব ধরণের সহযোগিতা থাকবে। বিহারের অবকাঠামো উন্নয়নে যা যা করা প্রয়োজন আমি সার্বিক সহায়তা প্রদান করবো। তাছাড়া বিহার সংলগ্ন সড়কটি বিশুদ্ধানন্দ মহাথেরোর নামে নামকরণের জন্য চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে আমি […]

Photo Gallery

Top Downloads

Icon

The Buddhist Times Android apps 46.21 KB 54 downloads

...
Icon

অভিধর্ম্মার্থ সংগ্রহ 1.65 MB 1 downloads

গ্রন্থের নামানুসারে ইহা একটি অর্থ-সংগ্রহ...
Developed by Dhammabiriya
error: অনুগ্রহ করে কপি/পেস্ট মনোভাব পরিহার করি নিজে লেখার যোগ্যতা অর্জন করুন।