সহজেই সরকারী চাকুরী পেতে টিপ্ স

Smiley face

উজ্জ্বল বড়ুয়া বাসুঃ চাকুরী শব্দটির কথা বললেই যে দুটি শব্দ সাথে সাথে চলে আসে সেগুলো হচ্ছে ‘সোনার হরিণ’। বর্তমান সময়ে একটি চাকুরী পেয়ে বেকারত্ব ঘোচানোর জন্য কি যে হাহাকার তা কেবলমাত্র ভুক্তভোগীরাই জানে। এজন্য চাকরির বিজ্ঞাপন দিয়ে ভরা পত্রিকাগুলোর উপরে বড় করে লেখা থাকে ‘লক্ষ বেকারের প্রিয় পত্রিকা’। আর এই লাইনটি থেকেই বুঝা যায় এ দেশে লক্ষ লক্ষ বেকার রয়েছে। বিশেষ করে অনার্স, মাষ্টার্স করা বেকারের সংখ্যাই মূলত বেশী বলে পরিলক্ষিত হয়। একেক বারের বিসিএস পরীক্ষায় কয়েক লক্ষ মেধাবী ছাত্র/ছাত্রী অংশ গ্রহণ করে। আর এই লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থীর জন্য বরাদ্দকৃত পোস্ট থাকে মাত্র ৬০০ থেকে ৮০০। তার মধ্যেও আবার বিভিন্ন কোটা থাকে। ফলে হাজার খানেক ছাত্র/ছাত্রীর বেকারত্ব ঘুচলেও বেশীরভাগের নামের সাথে বেকার তকমা লেগেই থাকে। অতঃপর কেউ কেউ বিভিন্ন ব্যাংকে যোগদান করে যার সংখ্যাও নিতান্তই কম। ফলে সিংহভাগ বেকার ছাত্র/ছাত্রীর কিছু অংশ মনস্তাপ সইতে না পেরে মাদকাগ্রস্ত হয়ে পড়ে কেউ কেউ আত্মহত্যার পথও বেচেঁ নেয়। মূলতঃ স্নাতকোত্তর পর্যন্ত পড়ার পরও বেকার থাকার কি যে যন্ত্রণা সেটা ঐ বেকার যুবক ছাড়া হয়তো অন্য কেউ উপলব্ধি করতে পারে না।

আজকের টিপ্স টি মূলত বিসিএস দিয়ে যারা হতাশ হয়ে যান ভাবেন আর কোনদিন প্রথম শ্রেণীর সরকারী কর্মকর্তা হতে পারবেন না তাদের জন্যই বিকল্প পথ নির্দেশ করবে। আবার অন্যরাও চাইলে এটাকে অনুসরণ করতে পারে। আমাদের দেশে সরকারী চাকুরীর ক্ষেত্রে অনেকধরণের পোস্ট থাকে যেগুলোতে নিয়োগের ক্ষেত্রে অনেকসময় দূর্নীতির অভিযোগও প্রচার পায়। কিন্তু কিছু পোস্ট আছে যেগুলোতে বাস্তব অভিজ্ঞতা অবশ্যই লাগবে; যেমন- ড্রাইভিং। ড্রাইভিং না জানা কেউ যদি ড্রাইভিং এর সার্টিফিকেটও নিয়ে যায় সে কোথাও চাকুরী পাবেনা। কারণ সে তো গাড়ী চালাতেই পারবেনা। এরকমই একটি পোস্ট আছে সরকারী চাকুরীতে সেটির নাম হচ্ছে- সাঁটলিপিকার কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে চাকুরী বিজ্ঞপ্তিতে এই পোস্টটি দেখা যায়। কিন্তু সাঁটলিপি লিখতে না জানার কারণে এই পোস্টে পরীক্ষার সংখ্যা হয় খুবই নগণ্য। উদাহরণ স্বরুপ অন্য একটি পোস্টের জন্য পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১০০০ হলে এই পোস্টে অংশ নেয় মাত্র ১০০জন। ফলে চাকুরী পাওয়া তুলনামূলকভাবে সহজ সাধ্যই বলা চলে এই পোস্টে। আবার সাঁটলিপি লিখতে না জানার কারণে এই পোস্টে লবিংও তেমন একটা চলে না। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে এই পোস্টটি তৃতীয় শ্রেণীর পদ হিসেবে গণ্য হয় কিন্তু এই পদবীর লোকদের বেতন থাকে অন্যান্য তৃতীয় শ্রেণীর পদের মধ্যে সর্বোচ্চ। আর এই পদবীর লোকরাই দ্রুত প্রমোশন পেয়ে ব্যক্তিগত কর্মকর্তা হয় যেটি দ্বিতীয় শ্রেণীর পদমর্যাদা সম্পন্ন। আর বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে ব্যক্তিগত কর্মকর্তাদের কি যে দাপট তা ভাষায় বলার অপেক্ষা রাখেনা। উল্লেখ্য এই পদটিকে প্রথম শ্রেণীর সমমর্যাদা সম্পন্ন করে ফেলছে বলেও গুজব আছে ফলে এই ভাবে তৃতীয়শ্রেণীতে চাকুরী নিয়েও হতে পারেন পরবর্তীতে ১ম শ্রেণীর কর্মকর্তা। উপায় আছে আরো-বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে ব্যক্তিগত কর্মকর্তা নামে একটি পদ আছে যেটি সরাসরি দ্বিতীয় শ্রেণীর। মাত্র দুই বছর পরেই আপনি পদোন্নতি নিয়ে হতে পারেন এসিট্যান্ট বেঞ্চ অফিসার যা দেবে বিসিএস ছাড়াই প্রথম শ্রেণীর গেজেটেড কর্মকর্তা হওয়ার সুযোগ। আর এখানে রয়েছে স্বতন্ত্র বেতন স্কেল যা দ্বারা আপনি একজন বিসিএস কর্মকর্তার চেয়েও বেশী বেতন পেতে পারেন। উল্লেখ করতে হয় এই পদে চাকুরী পেতে অবশ্যই শর্ট হ্যান্ট

বা সাঁটলিপি জানতে হবে। পাঠকদের সুবিধার্থে উল্লেখ করছি যে গত ২৫/০২/২০১৫ইং তারিখে বাংলাদেশে সুপ্রীম কোর্টে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে যেখানে ২য় শ্রেণীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা নেওয়া হবে ৩২ জন, ৩য় শ্রেণীর স্টেনোগ্রাফার ০২ জন, সাঁটমুদ্রাক্ষরিক ০২ জন এবং স্টেনোটাইপিস্ট ০২ জন নেওয়া হবে এদের প্রত্যেকেরই সাঁটলিপি জানতে হবে এবং পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হতে হবে। উল্লেখ করতে হয় গত সেপ্টেম্বরে ব্যক্তিগত কর্মকর্তা পদে ১২ জনের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছিল। কিন্তু সাঁটলিপি জানা যোগ্য প্রার্থী পাওয়া না যাওয়ায় মাত্র ০৭ জনকে মনোনীত করা হয় এই পদে। এ থেকে এটি সহজেই প্রতীয়মান হয় শর্টহ্যান্ড জানা দক্ষ লোকের এখনও কত অভাব।

★ শর্টহ্যান্ড বা সাঁটলিপি কি?

শর্টহ্যান্ড বা সাঁটলিপি হচ্ছে মূলত সংক্ষেপে লিখার একটি ভাষা। বক্তার বক্তব্যকে দ্রুত লিখার জন্যই এই ভাষা ব্যবহৃত হয়। ধরুন বক্তা বললো আমরা, এই আমরা লিখতে আপনার ৫ সেকেন্ড লাগবে কিন্তু শর্টহ্যান্ট এর ভাষায় (০ বা ও) লিখলেই চলবে যাতে সময় লাগবে মাত্র ১ সেকেন্ড। আর তাই সংক্ষেপে লিখার জন্যই এই ভাষাটি শিখতে হয়। বর্তমানে যারা এইচএসসি কিংবা ডিগ্রি শেষ করে চাকুরীর অপেক্ষা করছেন তারা মাত্র চার মাসেই এটি শিখতে পারে যা সরকারী চাকুরী পাওয়ার জন্য অনেক বেশী সহায়তা করতে পারে। কারণ আগেই বলেছি এই পদে পরীক্ষাথীর সংখ্যা থাকে খুবই নগণ্য। আপনি একটু অধ্যাবসায় করলেই এই পদে চাকুরী পাওয়া সুনিশ্চিত।

পরিশেষে বলতে হয়, আগামী জুলাই মাসে নতুন পে-স্কেল চালু হলে সরকারী চাকুরীজীবীদের বেতন দ্বিগুণেরও বেশী হয়ে যাবে এমতাবস্থায় সোনার হরিণটা হীরার হরিণে পরিণত হতে পারে। যারা বিসিএস এ টিকবেন তাদের জন্য রইল শুভ কামনা আর যারা ব্যর্থ হবেন তারা বসে না থেকে এই বিকল্প পদ্ধতিতে ২য়/৩য় শ্রেণীর পদ নিয়ে সরকারী চাকুরীতে প্রবেশ করুন যেটি আপনাকে অচিরেই প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তা হওয়ার সুযোগ করে দেবে।

Facebook Comments

বৌদ্ধদের আরো তথ্য ও সংবাদ পেতে হলে আমাদের ফেসবুক ফ্যান পেইজে লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন।: www.facebook.com/buddhisttimes

দি বুড্ডিস্ট টাইমস.কম একটি স্বতন্ত্র ইন্টারনেট মিডিয়া। এখানে বৌদ্ধদের দৈনন্দিন জীবনের বিষয়গুলোকেই তুলে আনার চেষ্টা করা হয়। পাশাপাশি যে কেহ লিখতে পারেন দি বুড্ডিস্ট টাইমস এ। দি বুড্ডিস্ট টাইমস এর সাথে লেখ-লেখিতে যুক্ত হতে চাইলে ব্যবহার বিধি ও নীতিমালা পড়ুন অথবা নিবন্ধন করুন
এখানে।

Recommended For You

Leave a Reply

error: অনুগ্রহ করে কপি/পেস্ট মনোভাব পরিহার করি নিজে লেখার যোগ্যতা অর্জন করুন।