Nov 21, 2016
31 Views
0 0

সারীপুত্র মহাস্থবিরের পূর্বজন্মের কাহিনী —( ১)

লিখেছেন:

সারীপুত্র মহাস্থবিরের পূর্বজন্মের কাহিনী —( ১)

শিষ্য-গুণ বর্ণনা

ইলা মুৎসুদ্দী

b20

 

শীলবান, ব্রতসম্পন্ন, সতত ধ্যানে নিরত সুরুচি তাপসের (সারিপুত্র মহাস্থবিরের পূর্বজন্মের নাম) চব্বিশ হাজার সুবিনীত শিষ্য ছিলেন। তাঁহারা আচার্য্য তাপসের সেবা করিতেন। সকলে যশস্বী এবং আভিজাত্য ব্রাহ্মণ বংশীয় সন্তান। তাঁহারা ধ্যানী, বীর, শান্ত এবং সমাহিত শিষ্যগণ আকিঞ্চণ্য ব্রহ্মলোক প্রার্থনা করত আচার্য্যরে নিকট অবস্থান করিতেন। তাহারা পঞ্চ অভিজ্ঞা পারমী প্রাপ্ত হইয়া আচার্য্য পরস্পরা আচরিত প্রথার অনুসরণ এবং আকাশ-মার্গে অবাধ গতিতে বিচরণ করিতেন। তাঁহার শিষ্যগণ ধ্যান কার্য্যে এতই অনুরক্ত ছিলেন যে- পদ্মাসনে বসিয়া অথবা পদাচরণ করিয়া ধ্যান করিতে করিতে ধ্যান সুখে দিন-যামিনী অতিবাহিত করিতেন। সর্ব্বদা ধ্যান লব্ধ ঋদ্ধিবলের মীমাংসা করিতেন। ঋদ্ধিবলে পৃথিবী কম্পিত করিতেন, ঋদ্ধিবলে জম্বুদ্বীপের আদি জম্বুবৃক্ষ হইতে জাম ফল আহরণ করিতেন। ঋদ্ধিবান তাপস-শিষ্যগণ আহার অন্বেষণে যাইতে হইলে, কেহ কেহ অপরগোয়ান দ্বীপে, কেহ কেহ পূর্ব্ব-বিদেহদ্বীপে আর কেহ উত্তর-কুরু দ্বীপে চলিয়া যাইতেন। আকাশ মার্গে যাইবার সময় আগে তাঁহাদের তাপস-উপকরণ পাঠাইয়া দিয়া, পরে চব্বিশ হাজার তাপস আকাশ আচ্ছাদিত করিয়া উড়িয়া যাইতেন। তাঁহাদের মধ্যে কেহ কেহ কাঁচা ফল মূল আহার করিতেন। কেহ কেহ পাক করিয়া, কেহ কেহ পাষাণের দ্বারা চুর্ণ করিয়া খাইতেন। আর কেহ কেহ স্বয়ং পতিত ফলাহার করিয়া জীবন যাপন করিতেন। তাপস-চর্য্যায় নিরত সেই জটিলবৃন্দ প্রাতঃকালে সম্মিলিত হইয়া লাভ ও অলাভ সম্বন্ধে বলাবলি করিয়া গগণ মার্গে প্রস্থান করিতেন। তাঁহাদের গমনকালীন যেই বড় শব্দ ধ্বনিত হইত, তাঁহাদের অজিন চর্ম্মের শব্দ শুনিলে দেবতারাও আনন্দ অনুভব করিত। আকাশচারী ঋদ্ধিগণ ঋদ্ধিবলে দিগি¦দিক চলিয়া যাইতেন, ঋদ্ধিবলে মহাশক্তিশালী বলিয়া, যথেচ্ছা গমনে তাঁহাদের বাধা হইত না। তাঁহারা সকলেই আকাশ মার্গে বিচরণশীল ছিলেন, পৃথিবী কাঁপাইতে ও দুঃসাধ্য ধ্যানের সাধনা করিতে সিদ্ধ হস্ত ছিলেন। তদীয় ঋষি শিষ্যগণের মধ্যে কেহ দাঁড়ান এবং কেহ উপবিষ্ট অবস্থায় ধ্যান করিতেন। তাঁহারা সিংহের ন্যায় নির্ভীকতা, হস্তীর ন্যায় শক্তি এবং ব্যাঘ্রের তুল্য অসীম সাহস লইয়া গুরুর নিকট উপস্থিত হইয়াছিলেন। তাঁহারা দয়া-ধর্ম্ম এবং আচর-ব্যাবহার ইত্যাদি বিষয়ে প্রকৃত ঋষির অনুরূপ ছিলেন। পরস্পরের মধ্যে যথেষ্ট গৌরব ছিল, গৌরবনীয় ব্যক্তিকে গৌরব করিতে কার্পণ্য করিতেন না। চুয়াত্তর হাজার তাপস একস্থানে একত্রে থাকিলেও কিন্তু পরস্পরের মনোমালিন্য কলহ-বিবাদ, মতানৈক্য ছিল না। অতি সুসংযতভাবে নিঃশব্দে, সমভাবে পা ফেলিয়া সকলে গুরুর কাছে যাইতেন এবং অবনত শিরে আচর্য্যরে পদ বন্দনা করিতেন। মহর্ষি সুরুচি তাপস, শান্ত বিনীত এবং তপস্বী শিষ্যগণ পরিবৃত হওতঃ ধ্যানে রত হইয়া অতিশয় রমণীয় আশ্রমে অবস্থান করিতেছিলেন।

শীলবান ঋষিগণের শীলগন্ধ, প্রস্ফুটিত নানাবিধ পুষ্পগন্ধ ও পরিপক্ক ফলের সুগন্ধ, এই ত্রিবিধ উত্তম গন্ধের দ্বারা সেই আশ্রম ভূমি সর্ব্বদা সুগন্ধময় থাকিত। সুরুচি তাপস এতই রমিত হইয়াছিলেন যে- তাঁহার কোন প্রকার উদ্বেগ বা উৎকণ্ঠার ভাব দেখা যাইতনা। দিন-যামিনী কি ভাবে অতিবাহিত হইতেছে, তাহা তিনি বিশেষ ভাবে অনুভব করিতেও পারিতেন না। নিজের সুবিনীত শিষ্যপুত্রদিগকে সারগর্ভ উপদেশ প্রদান করিয়া তিনি আরো বিশেষ ভাবে আত্মপ্রসাদ লাভ করিতেন। তেজস্বী পণ্ডিত তাপস সুরুচি সমাধি হইতে উঠিয়া, তাপস উপকরণ গ্রহণ পূর্ব্বক বনগহনে চলিয়া যাইতেন। লক্ষণ, স্বপ্ন প্রভৃতি গণনা শাস্ত্রে এবং প্রচলিত মন্ত্রপদে তিনি বহুদর্শী ছিলেন।

সূত্র — সারিপুত্র চরিত

 

Facebook Comments

বৌদ্ধদের আরো তথ্য ও সংবাদ পেতে হলে আমাদের ফেসবুক ফ্যান পেইজে লাইক দিয়ে সংযুক্ত থাকুন।: www.facebook.com/buddhisttimes

দি বুড্ডিস্ট টাইমস.কম একটি স্বতন্ত্র ইন্টারনেট মিডিয়া। এখানে বৌদ্ধদের দৈনন্দিন জীবনের বিষয়গুলোকেই তুলে আনার চেষ্টা করা হয়। পাশাপাশি যে কেহ লিখতে পারেন দি বুড্ডিস্ট টাইমস এ। দি বুড্ডিস্ট টাইমস এর সাথে লেখ-লেখিতে যুক্ত হতে চাইলে ব্যবহার বিধি ও নীতিমালা পড়ুন অথবা নিবন্ধন করুন
এখানে।
Article Categories:
বৌদ্ধধর্ম
http://www.thebuddhisttimes.com

ইলা মুৎসুদ্দি। সুপরিচিত ও জনপ্রিয় কলাম লেখক ও প্রাবন্ধিক। ই-মেইল:

Leave a Comment

error: অনুগ্রহ করে কপি/পেস্ট মনোভাব পরিহার করি নিজে লেখার যোগ্যতা অর্জন করুন।